পাবনায় জিংক সমৃদ্ধ ধানের আবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ
জিংক সমৃদ্ধ ধানের চাষ সম্প্রসারণে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) কার্যালয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ডিএইর সহযোগিতায় যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘হারভেস্টপ্লাস সলিউশনস বাংলাদেশ’ এবং ‘নিউট্রিশিয়ার এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ’। আয়োজকেরা জানান, কর্মশালায় পাবনার চার উপজেলার মোট ৪২ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংশ নেন। এতে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হিরেন্দ্র নাথ বর্মন এবং হারভেস্টপ্লাসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও মাস্টার ট্রেইনার মো. জাকিউল হাসান।
কর্মশালার বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য দেন পাবনা ডিএইর উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক, হারভেস্টপ্লাস সলিউশনসের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. ওয়াহিদুল আমিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং পাবনা ডিএইর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. রফিউল ইসলাম। কর্মশালায় অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. রফিউল ইসলাম বলেন, শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
বর্তমানে এই ঘাটতি মেটাতে জিংক ট্যাবলেট বা ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ ভাতের মাধ্যমেই আমরা খুব সহজে এই জিংকের চাহিদা পূরণ করতে পারি। এই লক্ষ্যেই জিংক সমৃদ্ধ ধানের চাষ বাড়াতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছর ধরে জিংক ধানের চাষ হলেও এবার পাবনায় এর পরিধি আরও বড় করার চেষ্টা চলছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে যাতে তারা কৃষকদের এই ধান চাষে সরাসরি উৎসাহিত ও সহযোগিতা করতে পারেন।
কারিগরি সেশনে ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হিরেন্দ্র নাথ বর্মন জানান, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ১২৭টি ধানের জাতের মধ্যে মাত্র ১০টি হাইব্রিড। এই বিশাল জাতের মধ্যে খুব কম জাতের ধানই জিংক সমৃদ্ধ। ড. হিরেন্দ্র নাথ বর্মন উল্লেখ করেন, জিংক সমৃদ্ধ জাতগুলোর মধ্যে ব্রি ধান-৭৪, ব্রি ধান-৮৪, ব্রি ধান-১০০, ব্রি ধান-১০২ এবং বিনা ধান-২০ অন্যতম। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, এগুলোর প্রতি কেজি চালে ২৫ মিলিগ্রামের বেশি জিংক রয়েছে। অনুষ্ঠানের মাস্টার ট্রেইনার মো. জাকিউল হাসান বলেন, রংপুর বিভাগের কৃষকেরা গত কয়েক বছরে জিংক ধানের চাষে বেশ সাফল্য পেয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাজশাহী বিভাগে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই মৌসুমে পাবনা, নাটোর এবং সিরাজগঞ্জ জেলাকে নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পাবনায় কৃষকদের মাঝে জিংক ধানের বীজ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাতেও এটি করা হবে।
চলতি মৌসুমে চাষ শুরু করার জন্য পাবনা জেলার মোট ১৩ হাজার ২০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে জিংক ধানের বীজ দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষের পদ্ধতি সাধারণ ধানের মতোই এবং এর ফলনও বেশ ভালো। তবে সাধারণ ধানের চেয়ে এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকদের এই আধুনিক জাতগুলো চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।