লালমনিরহাটে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিয়াকত আলীর ইন্তেকাল
লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. লিয়াকত আলী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে লালমনিরহাট সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা, এক পুত্র এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো. লিয়াকত আলী আজ সকালে নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মরহুমের পুত্র নাঈম খান সাদ(১৯) জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
লালমনিরহাট প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, আজ বাদ এশা স্থানীয় নেসারিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হবে। লিয়াকত আলীর মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লালমনিরহাট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
মরহুমের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদুর রহমান মুকুল বলেন, লিয়াকত আলী দৈনিক পরিবেশ, দৈনিক রংপুর চিত্র, নবচেতনাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রায় তিন দশক সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। একজন সহজ-সরল ও সজ্জন মানুষ হিসেবে সকলের কাছে তিনি শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শাহীন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, লিয়াকত আলী ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ সাংবাদিক। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি লালমনিরহাট জেলার নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
তিনি বলেন, লিয়াকত আলীর মৃত্যুতে লালমনিরহাটের সাংবাদিক সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। একজন সৎ ও পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তার কর্ম ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।