সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করবে সরকার: ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রকাশঃ Jun 9, 2026 - 22:33
সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করবে সরকার: ডা. জাহেদ উর রহমান

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বিদ্যমান সকল ৩১ ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। স্বাস্থ্য খাতসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিগত সপ্তাহের মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে সারাদেশে মাত্র ৮টি উপজেলায় ১০০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু রয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান বাড়াতে এর বাইরে থাকা দেশের বাকি সকল ৩১ শয্যা ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো তৈরি করা হবে। গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশের ডেঙ্গু রোগজনিত পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৭ জুন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত চিকিৎসকদের নিয়ে প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার বাইরে দেশের বাকি সাতটি বিভাগে এবং সবগুলো জেলায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের গ্রিড ব্যবস্থা আধুনিকায়নের সমীক্ষা চলছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা করা হয়েছে। লাইফ লাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যহার স্থগিত রেখে পূর্বের দাম বহাল রাখা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষার অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ১২ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলে দেশের ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। সারাদেশে ১ হাজার ১০০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কর্মসূচিতে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি চলছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এছাড়া, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবারের ঈদুল আযহার শতভাগ চাহিদা পূরণ হয়েছে।