ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার একজন

প্রকাশঃ Jul 3, 2026 - 17:33
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার একজন


ভেনিজুয়েলায় প্রাণঘাতী জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর বৃহস্পতিবার একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করার পর শত শত উদ্ধারকর্মী উল্লাস করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপি সাংবাদিকরা এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান।  ভূমিকম্পে দেশটির মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০-এ পৌঁছেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর নিরাপত্তা প্রহরী হার্নান গিলের জীবিত উদ্ধারকে একটি ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কাটিয়া লা মার উপকূলীয় এলাকায় তিনি যেখানে কাজ করতেন, সেই ধসে পড়া সাততলা ভবন থেকে দীর্ঘ ও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে হার্নান গিলকে স্ট্রেচারে করে বের করে আনা হয়। এই এলাকাটি ২৪ জুনের বিপর্যয়ে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।গিলের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস এএফপিকে বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি অলৌকিক ঘটনা।’ উদ্ধারকাজ চলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প দুর্যোগগুলোর একটি। এই  ভূমিকম্পে বহু আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়ে, যার ফলে অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন এবং একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

ভেনেজুয়েলা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, কোস্টারিকা, এল সালভাদর ও মেক্সিকো—এই সাতটি দেশের উদ্ধারকারী দল তিন দিন ধরে টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে হার্নান গিলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। উদ্ধারকারীরা একটি পাইপের মাধ্যমে তাকে ১০ লিটারেরও বেশি পানি সরবরাহ করে, যাতে তিনি পানিশূন্যতা থেকে বাঁচতে পারেন। একই সঙ্গে তাকে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য একটি টিউব স্থাপন করা হয়।

উদ্ধার অভিযানের শেষ পর্যায়ে প্রায় ৩০ জন উদ্ধারকর্মী ভবনের পার্কিং এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কাজ করেন, আর দুইজন উদ্ধারকর্মী তিন মিটার দীর্ঘ একটি টানেল খনন করেন। চিলির উদ্ধার দলের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান ভেরা এএফপি’কে বলেন, ভুক্তভোগী যেখানে ছিলেন সেখানে পৌঁছানো সহজ ছিল না।’ তবে কিছু ব্যতিক্রমী উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও; মঙ্গলবার ছয় দিন পর তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত পাওয়া যায়।  তবে এখন অনেক মানুষের জীবিত থাকার আশা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের জীবনধারণ নিশ্চিত করার দিকে।

অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং হাসপাতালগুলোর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। অনেকে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করছেন এবং ধীরগতির সহায়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার দ্রুতই সামরিক ও বেসামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে।