ব্যবসার প্রলোভনে প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মিজানুর রহমান ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক প্রবাসীর অভিযোগ
প্রকাশঃ Aug 23, 2026 - 00:18
ব্যবসার প্রলোভনে প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ


যাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, সেই প্রবাসী বাংলাদেশিরাই নিজ দেশে ফিরে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায় বিনিয়োগ, বিপুল মুনাফা এবং আর্থিকভাবে লাভবান করার নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও বাড়ছে।

এমনই অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান ও তার ভাই মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সৈয়দ রাজু অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ী পরিচয়ে মিজানুর রহমান বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং তাকে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সৈয়দ রাজুর অভিযোগ, মিজানুর রহমান ও তার ভাই মশিউর রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রবাসীদের টার্গেট করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রস্তাবের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

শরীয়তপুরের নিয়াজ মোরশেদও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে মিজানুর রহমান ও তার ভাই তার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া দুবাইপ্রবাসী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, মিজানুর রহমান ও মশিউর রহমানের কথিত চক্র তার কাছ থেকেও ৩০ লাখ টাকা নিয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও লাভজনক বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে এসব অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে টাকা ফেরত পেতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান ও তার ভাই মশিউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই দেশে বিনিয়োগ করতে আসা প্রবাসীদের অর্থ ও স্বার্থ সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণার অভিযোগগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।