ক্রিকেট বালক বিভাগের ফাইনালে রাজশাহী-রংপুর, বালিকায় ময়মনসিংহ-ঢাকা
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্টের ক্রিকেট ইভেন্টের বালক বিভাগে ফাইনালে উঠেছে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল। বালিকা বিভাগের ফাইনাল হবে ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের মধ্যে।
প্রতিযোগীতার চতুর্থদিনেও ছিল বৃষ্টির বাধা। চার ম্যাচের একটিতে কেবল নির্ধারিত ওভারের খেলা হয়।
বালক বিভাগের প্রথম সেমিফাইনালে ফরিদপুর অঞ্চলকে বৃষ্টি আইনে ৮ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে রংপুর অঞ্চল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮৯ রান তোলে ফরিদপুর। জবাবে ৫ ওভারে ৫২ রান তোলে ফেলে রংপুর। এরপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি আইনে জয় পায় রংপুর।
কোয়ার্টার ফাইনালে ৯০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফরিদপুরকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন মশিউর রহমান।
তবে সেমিফাইনালে ডানহাতি এ ব্যাটারের উইলো হাসেনি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অফে আব্দুল কাইয়ুম সাকিবের হাতে ধরা পড়েন। তিনে নামা নাজমুল ইসলাম ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
তৃতীয় উইকেটে ওপেনার হাফিজুর রহমানকে নিয়ে ১৯ রানে জুটি গড়েন আকিব হাসান। ২৮ রানে ৩ উইকেট হারায় ফরিদপুর। চতুর্থ উইকেটে উইকেটরক্ষক ব্যাটার আমির হোসেনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হাফিজ। দু’জন মিলে যোগ করেন ৩৫ রান। দলীয় ৬৩ রানের মাথায় বিদায় নেন হাফিজ। আমিরের ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। শেষদিকে জুবি হাসানের ৭ বলে ১৬ রানের ক্যামিওতে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় ফরিদপুর।
রংপুরের হয়ে মাহফিজুর রহমান, ফারহান সাদিক ও ফারহান কবির ১টি করে উইকেট নেন।
ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুরকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার আব্দুল কাইয়ুম সাকিব ও ইলমান বিন ইমতিয়াজ। প্রথম ওভারে ১৮ রান তোলেন তারা। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। ৭ বলে ১৭ রান করেন রংপুর অধিনায়ক। তিনে নামা বিহন সরকার ব্যক্তিগত ৫ রানে আলিফের বলে বোল্ড হন। দলীয় ৪৩ রানে নাওফাত ইসলাম নিরবের উইকেট হারায় রংপুর। নিরবের ব্যাট থেকে আসে ৮ রান। পাঁচে নামা অন্তর মিয়া ক্রিজে নেমে নিজের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান। ৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৫২ রান তোলে রংপুর। এরপরই বৃষ্টি নামে। ইমতিয়াজ ১২ ও অন্তর ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। রংপুরের অধিনায়ক আব্দুল কাইয়ুম সাকিব ম্যাচসেরা হন।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সিলেটের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করা রাজশাহী শুরুতে ধাক্কা খায়। প্রথম ওভারে ওপেনার তাজবিহ তাসনিমকে হারায় তারা। তবে আরেক ওপেনার মো. শারাফাত সাদিদ রাজশাহী হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ৭ ছক্কা ও ২ চারে ১১ বলে অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। আলী রেজা বিন ওমরের বলে সাজঘরে ফেরার আগে ৫৩ রান করেন সাদিদ। এরপর সাবিথ আনাম নিরবের ২২, তাহমিদ হাসানের ১৯ ও তামজিদ হাসানের ১১ রানে ভর করে ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৫ রানের সংগ্রহ পায় রাজশাহী। সিলেটের ওমর ১৬ রানে নেন ২ উইকেট।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেটকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ওপেনার সাদ হোসাইন। প্রথম ওভারে ২২ রান তুলে সিলেট। দ্বিতীয় ওভারের শুরুতে রান আউটের শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ২০ রানে বিদায় নেন সাদ।
এরপরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সিলেটের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৬৮ রান করে সিলেট। ৫৭ রানে জয় দিয়ে ফাইনালে পা রাখে রাজশাহী।
বালিকা বিভাগের প্রথম সেমিফাইনালে চট্টগ্রামকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে ময়মনসিংহ অঞ্চল। বৃষ্টিবাধায় ম্যাচটি ২ ওভারে নামিয়ে আনেন আম্পায়াররা। টস জিতে শুরুতে ব্যাট করে কোনও উইকেট না হারিয়ে ২০ রান তোলে চট্টগ্রাম। পরে ২ বল বাকী থাকতে বিনা উইকেটে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ময়মনসিংহ। ম্যাচসেরা ময়মনসিংহের সাদিয়া আফরিন জান্নাত।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালেও ছিল বৃষ্টি বাগড়া। ঢাকা-রাজশাহী ম্যাচ গড়ায় ৫ ওভারে। আগে ব্যাট করে ৪৪ রান তোলে রাজশাহীর মেয়েরা। ওপেনার সাথি খাতুন ৬ চারে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন। পরে আবারো বৃষ্টি নামে। ডিএলএস মেথডে ঢাকার জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ২ ওভারে ২৪ রান। নাটকীয় সেই লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পা রাখে ঢাকা।