ইনভয়েস বিরোধে আইনগত দায়ী পক্ষের সঙ্গে নিষ্পত্তি চায় বিজিএমইএ-এলপিপি
এফইএস রিটেইলের ইনভয়েস-সংক্রান্ত দাবি নিয়ে চলমান বিরোধের সুষ্ঠু ও আইনানুগ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং ইউরোপীয় পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি এসএ।
একইসঙ্গে সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরোধের কারণে বাংলাদেশের পুরো পোশাক খাত, শ্রমিক এবং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে উভয় পক্ষ।
আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বিজিএমইএ ও এলপিপি জানায়, বর্তমানে আলোচিত বিষয়টি কয়েকটি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও ইনভয়েস-সংক্রান্ত বকেয়া দায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। এলপিপি বলেছে, এসব দাবির ক্ষেত্রে তারা দেনাদার বা আইনগতভাবে অর্থ পরিশোধে বাধ্য কোনো পক্ষ নয়।
এলপিপি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের পাওনা তারা নিয়মিতভাবে এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করে আসছে।
বিজিএমইএ এলপিপির এ অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বলেছে, সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সেইসব প্রতিষ্ঠানের কাছেই উত্থাপন করা উচিত, যারা আইনগতভাবে এসব দায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে, সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো বর্তমানে কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির মুখোমুখি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব দায়-দেনা নিষ্পত্তির বিষয়ে যেকোনো আলোচনা আইনগতভাবে দায়ী পক্ষের সঙ্গে হওয়া উচিত। একইসঙ্গে এলপিপি তার নিজস্ব আইনগত অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।
এলপিপি জানিয়েছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা, আইনগত নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল, পূর্বানুমেয় ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই পর্যালোচনা কোনো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি। একইসঙ্গে বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক সব দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালনের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজিএমইএ ও এলপিপি বলেছে, এলপিপির সঙ্গে বর্তমানে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ৩৫০টিরও বেশি প্রস্তুতকারকসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক পোশাক খাতের স্বার্থ সীমিত সংখ্যক তৃতীয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
এ কারণে উভয় পক্ষ ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ ধরনের প্রচার অন্য প্রস্তুতকারক, পোশাকশ্রমিক এবং এলপিপির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করে।
বিষয়টির সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলেও যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এতে এলপিপির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো ধরনের অনুচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনগত জটিলতা থেকে সুরক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানায় বিজিএমইএ।
তবে যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এ অবস্থান আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে না এবং আইনগতভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো পক্ষের বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকারও সীমিত করছে না।
বিজিএমইএ ও এলপিপি তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেছে উভয় প্রতিষ্ঠান।
যৌথ বিবৃতিতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এলপিপি এসএর ক্রয় ও পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনবিষয়ক পরিচালক ডোরোটা জানকোভস্কা-টমকৌ স্বাক্ষর করেন। সাক্ষী হিসেবে রয়েছে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং এলপিপি এসএ’র কান্ট্রি ম্যানেজার আনা স্টাসকিউইচ।