ব্যবসায়ীদের মতামতে যুগোপযোগী হবে কোম্পানি আইন: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মতামত ও সুনির্দিষ্ট পরামর্শের ভিত্তিতেই ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’ সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, “এই আইন মূলত ব্যবহার করবেন ব্যবসায়ীরা। তাই তাঁদের বাস্তব চাহিদা, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির বিষয়াশয় বিবেচনায় নিয়েই আইনটিকে সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।”
আজ রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’-এর তৃতীয় সংশোধন-২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ও পুরোপুরি ব্যবসাবান্ধব করে গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে খোলামেলা মতামত ও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সময়ের দাবি। সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও কার্যকর অর্থনীতির সফল মডেল ও অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা নিয়ে প্রস্তাবিত খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মূলনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। নতুন এই আইনটির মূল সুফলভোগী হবেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। সরকার কেবল নিয়ন্ত্রক ও সহায়ক কাঠামো তৈরি করে, মূল অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখে বেসরকারি খাত।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিই হচ্ছে বেসরকারি খাত। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর ও হয়রানিমুক্ত আইন প্রণয়ন অত্যাবশ্যক। কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি রূপান্তরকালীন সময় পার করছে। এ সময়ে বিচক্ষণতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়তে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আইনটি চূড়ান্ত প্রণয়নের পর তা সরাসরি প্রয়োগ হবে বেসরকারি খাতেই। ফলে সংশোধিত আইনটি যেন এমন হয়, যা উদ্যোক্তাদের সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নতুন ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় পূর্ণ সহায়তা যোগায়।
তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী তিন বছরের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার একাধিক নির্দেশনামূলক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কোম্পানি আইনের এই আধুনিকায়ন সেই প্রক্রিয়ারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।