তেলের দাম ও দুর্বল ইয়েনের প্রভাবে জাপানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও ইয়েনের দরপতনের প্রভাবে গত জুনে জাপানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।
জাপানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি জুনে দাঁড়িয়েছে ১.৬ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ১.৪ শতাংশ। এ হার বাজারের গড় পূর্বাভাসের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের কারণে আমদানি করা জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব অন্য পণ্যের দামেও পড়েছে।
এদিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর কমে রাতারাতি চার দশকের নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এতে সম্পদ-স্বল্প জাপানের জন্য তেল, খাদ্যসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের ব্যয় আরও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতে ভর্তুকি চালু করেছেন।
খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিলে জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ১.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মে মাসে এ হার ছিল ১.৮ শতাংশ। এটি বাজারের ১.৮ শতাংশ পূর্বাভাসের সামান্য নিচে।
সব ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করে হিসাব করলে জুনে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১.৭ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ১.৫ শতাংশ। এটিও বাজারের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলেছে।
-সুদের হার-
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা পাঁচ মাস ধরে জাপানের মূল মূল্যস্ফীতি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব জাপান’-এর ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে।
গত জুনে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করে।
তবে আগামী ৩১ জুলাইয়ের বৈঠকে ‘ব্যাংক অব জাপান’ তাদেও সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন।