২০২৮ সালের প্রাথমিক বাছাইয়ের সূচনায় সাউথ ক্যারোলিনাকে বেছে নিল ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি শনিবার ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাছাইপর্ব শুরু হবে সাউথ ক্যারোলিনা ও নেভাদায়।
দলটির চেয়ারম্যান কেন মার্টিন এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন সময়সূচি ‘সত্যিকার অর্থে আমাদের দল ও মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউস পুনর্দখলে আমাদের সহায়তা করবে।’
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বড় অংশের বসবাস সাউথ ক্যারোলিনায়। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যে ২০২৮ সালের ২২ জানুয়ারি ভোট হবে। এরপর পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নেভাদায় ১ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। নেভাদার ৩০ শতাংশের বেশি জনসংখ্যা লাতিনো।
এরপর নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ মেক্সিকো, মিশিগান ও ভার্জিনিয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রথম ছয় অঙ্গরাজ্যের তালিকা পূর্ণ করবে।
ডেমোক্রেটিক পার্টি বলেছে, নতুন সময়সূচির লক্ষ্য হলো প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের আরও বৈচিত্র্যময় ভোটারদের মুখোমুখি করা। একই সঙ্গে সাধারণ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তাদের পরীক্ষা নেওয়া।
২০২০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে জো বাইডেনের সফলতার পেছনে সাউথ ক্যারোলিনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বাইডেনও এর প্রতিদান দেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের প্রাথমিক বাছাইয়ে সাউথ ক্যারোলিনাকে প্রথম অঙ্গরাজ্য করার জন্য তিনি নিয়ম পরিবর্তন করেন।
তবে নিউ হ্যাম্পশায়ার নতুন নিয়ম মানেনি। অঙ্গরাজ্যটির আইনে দেশজুড়ে সবার আগে সেখানে প্রাথমিক বাছাই অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই ২০২৪ সালে সাউথ ক্যারোলিনার আগেই সেখানে ভোট হয়।
এ ধরনের পদক্ষেপ ঠেকাতে শনিবার দলীয় কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়সূচি না মানা অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য শাস্তি বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ার নতুন সময়সূচি মেনে চলবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আইওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত। অঙ্গরাজ্যটির আইনে অন্য সব অঙ্গরাজ্যের আগে সেখানে ককাস অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ককাস হলো ভোট গ্রহণের একটি বিকল্প পদ্ধতি।
সাউথ ক্যারোলিনা বা নেভাদার তুলনায় আগে ভোট দেওয়া নিউ হ্যাম্পশায়ার ও আইওয়ার জনসংখ্যা কম এবং বৈচিত্র্যও কম।
যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ১৪ লাখ জনসংখ্যার নিউ হ্যাম্পশায়ারে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ শ্বেতাঙ্গ। আর ৩২ লাখ জনসংখ্যার আইওয়ায় ৮৮ শতাংশ মানুষ শ্বেতাঙ্গ।