পুঁজিবাজারের অস্থিরতা কাটাতে ডিএসই-ডিবিএর জরুরি বৈঠক

প্রকাশঃ Sep 8, 2026 - 21:21
পুঁজিবাজারের অস্থিরতা কাটাতে ডিএসই-ডিবিএর জরুরি বৈঠক


পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিরসন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৈঠকে বাজারে নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো এবং ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ঘাটতি দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আজ বেলা ১১টায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাজার-সংশ্লিষ্টদের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকের শুরুতে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সময়োপযোগী। বাজারের আস্থা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ’র সীমিত উপস্থিতি বাজারের অন্যতম দুর্বলতা। এ অবস্থায় নতুন বন্ডের লিস্টিং ফি কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিং-এর আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের লিস্টিং ফি’র ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ  রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। তবে নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।

তিনি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিসি অ্যাকাউন্ট, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধানের আহ্বান জানান। এ ধরনের ঘাটতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পুরো বাজারের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই তা অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; বরং লেনদেনের ধরন, মূল্য-প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা ও নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স ও সার্ভেইল্যান্স-সংক্রান্ত কিছু পরিদর্শন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল, যা বিএসইসিতে প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে এসব পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরে দেশের পুঁজিবাজারকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব।