দিনাজপুরের কলা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে

প্রকাশঃ Aug 25, 2026 - 15:50
দিনাজপুরের কলা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে


দিনাজপুর কাহারোল উপজেলার দশমাইলে ঢাকা-দিনাজপুর- ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম কলার পাইকারি হাট বসে।

এই হাটে প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার কাঁচা কলা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। শত শত ট্রাকে এই কাঁচা কলা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এই কলার হাটে কয়েকশ’ বেকার যুবক শ্রমিকের কাজ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, আমি গতকাল সোমবার দুপুরে দশমাইলে অবস্থিত উত্তর অঞ্চলের এই সর্ববৃহৎ কলার হাট সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আমি দেখেছি, এই হাটে কলার বিশাল আমদানি হয়। জেলার বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক পাইকার এখানে প্রতিদিন কলা কিনতে আসেন।

তিনি জানান, জেলার কাহারোল উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী বীরগঞ্জ,খানসামা, চিরিরবন্দর, বোচাগঞ্জ এবং পার্শ্ববতী ঠাকুরগাঁও সদর,পীরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলা গুলোতে কলা চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। ফলে লাভজনক ফসল হওয়ায় কলার আবাদে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এখানকার কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। বর্তমানে বাজারে কলার চাহিদা অনুযায়ী দাম বেশি থাকায় এবং উৎপাদন বেশি হওয়ায় আগ্রহের সাথে কলা চাষ করছেন কৃষকরা। গ্রীষ্মকালীন সময় বৈশাখ মাস থেকে শরৎকাল আশ্বিন মাস পর্যন্ত সারাদেশে কলার চাহিদা থাকায়, বর্তমানে এখানে প্রতিদিন কলার পাইকারি হাট বসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে প্রতিদিন কলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

অনুকূল আবহাওয়া এবং চাহিদা থাকায় এবারে জেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত কলা চাষ হয়েছে।

কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে কাহারোল উপজেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে কলাচাষ হয়েছে। যেখানে গত বছর কলা চাষ হয়েছিল ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় ১০৭ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত কলা চাষ এই উপজেলায় অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলা চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর এই উপজেলায় কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা কলার ভাল মূল্য পাওয়ায় তারা বেশ খুশিতে রয়েছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দশমাইল কলার হাটে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে কলাচাষি, ব্যবসায়ী ও পাইকারদের। হাটজুড়ে সারি সারি কলার কাঁদি সাজানো রয়েছে। চাষিরা ভ্যানযোগে সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত কলা নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন। পাইকার ও কলাচাষীদের মধ্যে দর কষাকষির মাধ্যমে ভ্যানের ওপর থেকেই কাচাঁ কলা সহজেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

কাহারোল উপজেলার গুড়নুরপুর গ্রামের কলাচাষী নুরুল ইসলাম লাইজু জানান, তিনি এবার ৫২ শতক জমিতে কলা চাষ করেছেন। দশ মাইল কলার হাটে একশ’ কলার কাঁদি এনে ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তার কলার জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার অধিক কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই গ্রামের কলাচাষি আব্দুল আহাদ বলেন, প্রতিটি কলার কাঁদি ৬৯০ টাকা করে বিক্রি করেছি। এ বছর সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালোই হয়েছে।

এমন দাম পেলে এই বছর সাড়ে ৪ লক্ষাধিক টাকার কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। বাজারে এরকম দাম পাওয়া গেলে ভালোই লাভবান হওয়া যাবে বলে আশা করছি।

ঢাকা থেকে আগত কলা ব্যবসায়ী মো. নিয়ামুল ইসলাম জানান, ভালো মানের কলার দাম একটু বেশি। তিনি প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ট্রাক কাঁচা কলা ক্রয় করে ঢাকা পাঠাচ্ছেন।

দশ মাইল কলার হাটের শ্রমিক মো. সহেন আলী জানান, এই হাটে প্রতিদিন ট্রাক লোড দিয়ে একজন শ্রমিক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত রোজগার করতে পারেন। এখানে প্রতিদিন কয়েকশ’ শ্রমিক কলার ট্রাক লোড করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরে অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কলা একটি লাভজনক ফসল। এই অঞ্চলের কৃষকরা উন্নত জাতের মেহেরসাগর, মালভোগ, চিনিচাপ্পা ও সবরি কলা চাষে আগ্রাহ বেশি বেড়েছে। এজন্য কৃষকদের কলা চাষে কৃষি বিভাগ নিয়মিত সব ধরনের সহযোগিতা  দিয়ে যাচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের কলার ভালো ফলন পাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা কলার ভালো উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পাচ্ছেন।