কোভিডকালে অতিরিক্ত মৃত্যুর হার নিয়ে বিতর্কিত গবেষণা প্রত্যাহার

প্রকাশঃ Aug 12, 2026 - 19:05
কোভিডকালে অতিরিক্ত মৃত্যুর হার নিয়ে বিতর্কিত গবেষণা প্রত্যাহার


কোভিড-১৯ মহামারির সময় অতিরিক্ত মৃত্যুর হার নিয়ে করা একটি বিতর্কিত গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। গবেষণাটি কোভিড টিকা নিয়ে সংশয়বাদীদের বক্তব্যকে সমর্থন করে—এমন ব্যাপক সমালোচনার পর বুধবার ব্রিটিশ জার্নালটির প্রকাশক এ তথ্য জানিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিএমজে গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গত ২০২৪ সালে ‘বিএমজে পাবলিক হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি ‘মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ভুল তথ্য এবং গবেষকদের করা সীমিত মৌলিক কাজের’ কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, কোভিড-১৯ সংকটের চরম পর্যায় পার হওয়ার পরও পশ্চিমা বিশ্বে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল।

টিকাবিরোধী বিভিন্ন নিবন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে গবেষণাটি ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হয়। এসব পোস্টে ভুলভাবে দাবি করা হয় যে গবেষণাপত্রটি অতিরিক্ত মৃত্যুর সঙ্গে কোভিড টিকার সরাসরি সম্পর্ক দেখিয়েছে। তবে গবেষণাপত্রে এমন কোনো সরাসরি সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।

তবে গবেষণায় বলা হয়েছিল, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা এবং কোভিড-১৯ টিকা চালু করা সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্বে টানা তিন বছর মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি ছিল।

গবেষণার এই অস্পষ্ট বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। কয়েকজন গবেষক অভিযোগ করেন, এর ফলে কোভিড টিকার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে কোভিড টিকা লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে বলে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গবেষণাটিতে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা হিসাব করার পদ্ধতিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

বিএমজে গ্রুপ, যারা মর্যাদাপূর্ণ ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালও প্রকাশ করে। এর আগে তারা জানিয়েছিল যে তারা গবেষণাটি তদন্ত করছে।

গবেষণাটির চার লেখকের মধ্যে তিনজন নেদারল্যান্ডসের প্রিন্সেস ম্যাক্সিমা সেন্টার ফর পেডিয়াট্রিক অনকোলজি-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারাও বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছিল।

২০২৪ সালেই গবেষণাপত্রটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তের পর, বিএমজে গ্রুপ গবেষণাটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের ক্ষেত্রে এটি কোনো গবেষণার বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ।  

প্রকাশক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণাটির চার লেখকের মধ্যে দুজন গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।