প্রত্যাশার চেয়ে কম জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
ইরান যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যেও চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) জাপানের অর্থনীতিতে সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে, এই প্রবৃদ্ধির হার পূর্বাভাসের চেয়ে কম। সোমবার জাপান সরকারের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।
উচ্চ জ্বালানি তেলের দাম জাপানের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভোক্তাপর্যায়ে পণ্যের দামও বেড়েছে। দুর্বল ইয়েনের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জনপ্রিয়তাও কমছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জাপানের মন্ত্রিসভা কার্যালয়ের মৌসুমভিত্তিক সমন্বয় করা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে জাপানের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের প্রান্তিকের তুলনায় ০.৩ শতাংশ বেড়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা ০.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ব্লুমবার্গ নিউজের এক জরিপে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়। এর আগে বছরের প্রথম প্রান্তিকেও জাপানের অর্থনীতি ০.৫ শতাংশ বেড়েছিল।
বার্ষিক হিসাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১.১ শতাংশ। অথচ বাজারের পূর্বাভাস ছিল ২ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির হার সংশোধন করে ১.৯ শতাংশ করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে ধারণা করা হচ্ছিল, মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) শিগগিরই সুদের হার বাড়াতে পারে। সুদের হার বাড়ানো হলে ইয়েনের মূল্যও কিছুটা বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে মুদ্রাবাজারে ইয়েন কেনার মাধ্যমে ইয়েনের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এর আগে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য প্রায় ১৬৪-এ নেমে গিয়েছিল, যা চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়।
যৌথ হস্তক্ষেপের পর ইয়েনের মূল্য সাময়িকভাবে বেড়ে ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৫৫-এ উঠেছিল। তবে পরে আবার দরপতন হয়। সোমবার এক ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম ছিল প্রায় ১৫৯.১১।
দুর্বল ইয়েন জাপানের বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুবিধাজনক। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। গত ৪ আগস্ট টয়োটা তাদের মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
তবে দুর্বল ইয়েনের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। জাপানের অনেক আমদানি পণ্যের দাম মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয়। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে জাপানকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য আগের তুলনায় বেশি ইয়েন খরচ করতে হচ্ছে।
প্রত্যাশার চেয়ে কম জিডিপি প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণগুলোর একটি হলো মূলধনি বিনিয়োগ বা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে যাওয়া। এই খাতের প্রবৃদ্ধিও বাজারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। একই সময়ে ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ও অপরিবর্তিত ছিল, যদিও তা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সরকার জনগণের জন্য বিভিন্ন সহায়তা বাড়িয়েছে। তাঁর আগের দুই পূর্বসূরিও মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।
২০২৫ সালের শেষ দিকে সরকার বড় ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ গ্রহণ করে। এর পাশাপাশি জ্বালানি খাতে ব্যাপক কর ছাড় দেওয়া হয়। চলতি বছরের শুরুতেও সরকার অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জুলাইয়ের শেষ দিকে সরকার জানায়, খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগকর বা কনজাম্পশন ট্যাক্স কমানো হবে। আগামী এপ্রিল থেকে খাদ্যপণ্যের ওপর এই কর ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনএলআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ তারো সাইতো এএফপিকে বলেন, জিডিপির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ। ভোগব্যয় ও মূলধনি বিনিয়োগ—দুটিই দুর্বল।
তিনি বলেন, এই প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী অর্থনীতির লক্ষণ বলা যায় না। বরং আমদানি কমে যাওয়াই প্রবৃদ্ধির একটি কারণ। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে সমস্যার কারণে জাপানের জন্য তেল আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে।