ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশঃ Oct 8, 2026 - 19:17
ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


ফ্রান্সজুড়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতা প্রশমনে সরকারের নানা উদ্যোগের পরও নতুন করে এই বিক্ষোভ হতে যাচ্ছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা দেশটির বিপুলসংখ্যক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছে। শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং তাপমাত্রা বাড়ার সাথে মানিয়ে নিতে না পারা ভবন নিয়ে তারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

শিক্ষার্থী ইউনিয়নের নেতারা বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নতুন করে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় শিক্ষা ইউনিয়নগুলোও সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার লক্ষ্যে বুধবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্ন বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ এই সংকট মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া হবে।

উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের প্রতি দেশ ‘উদাসীন’ থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন, ‘তরুণদের এই ক্ষোভ এমনি এমনি তৈরি হয়নি।’

পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলেও তিনি অস্বীকার করেন যে, তরুণদের ‘মোকাবিলা করার নির্দেশ’ নিরাপত্তা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের এই আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ফঁতেনব্লোর এক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিলু এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বাস্তব পদক্ষেপ চাই। আর তা না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

শিক্ষার্থী সংগঠন ফাজের সভাপতি সুজান নিঝদাম বৃহস্পতিবার আন্দোলন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভের আহ্বান জানান।

একই সাথে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী লেকর্নর সাথে সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে। সেখানে তারা নিজেদের দাবি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট খরচের হিসাবসহ প্রস্তাব তুলে ধরতে চায়।

এই বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী, পুলিশ ও শিক্ষকসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

অনেক স্থানে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীরা আগুন দেওয়া, বাসের যাত্রীছাউনি ভাঙচুর এবং দাঙ্গা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

গত সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হাত হারানোর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার সকালে রেডিও স্টেশন আরটিএলকে জানান, পুলিশকে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছ। দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতোমধ্যে ১৮টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।

২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকতে এই অস্থিরতা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। ওই নির্বাচনে মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচিত হবেন। বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া কট্টর ডানপন্থী জ্যেষ্ঠ প্রার্থী মেরিন ল্য পেন জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।