কান ২০২৬: নতুন পাম দ'অর বিজয়ী, বিশ্ব সিনেমার জয়জয়কার
কান, ফ্রান্স: বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর পর্দা নেমেছে নতুন ইতিহাস রচনা করে। এবারের আসরের সর্বোচ্চ সম্মান পাম দ'অর (Palme d'Or) জিতেছে রোমানিয়ান নির্মাতা Cristian Mungiu পরিচালিত ‘Fjord’। এর মাধ্যমে মুঙ্গিউ দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করে বিশ্ব চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করলেন।
১২ থেকে ২৩ মে অনুষ্ঠিত ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ফ্রান্সের কান শহর। এবারের প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত নির্মাতা Park Chan-wook।
বিজয়ী চলচ্চিত্র ‘Fjord’ মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক বিভাজন এবং সমসাময়িক ইউরোপীয় বাস্তবতাকে গভীর সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক সমালোচকদের মতে, ছবিটির শক্তিশালী চিত্রনাট্য, নিখুঁত নির্মাণশৈলী এবং অভিনয় একে উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্রে পরিণত করে। পুরস্কার গ্রহণের সময় মুঙ্গিউ বলেন, সত্য ও মানবিক মূল্যবোধের গল্প বলার সাহসই একজন নির্মাতার সবচেয়ে বড় শক্তি।
এবারের গ্রাঁ প্রি (Grand Prix) জিতেছে রুশ নির্মাতা Andrey Zvyagintsev পরিচালিত ‘Minotaure’। অন্যদিকে জুরি পুরস্কার পেয়েছে জার্মান নির্মাতা Valeska Grisebach-এর ‘Das Geträumte Abenteuer’। সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন Emmanuel Marre, আর সেরা পরিচালক হিসেবে যৌথভাবে সম্মাননা পান Javier Calvo ও Javier Ambrossi, পাশাপাশি Paweł Pawlikowski।
পুরো উৎসবজুড়ে ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং উত্তর আমেরিকার চলচ্চিত্রগুলো সমানভাবে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে। বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তু, রাজনৈতিক বাস্তবতা, জলবায়ু সংকট, অভিবাসন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের মতো সমসাময়িক ইস্যু এবারের চলচ্চিত্রগুলোর প্রধান উপজীব্য ছিল। ফলে কান ২০২৬ আবারও প্রমাণ করেছে যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং বৈশ্বিক সমাজের প্রতিচ্ছবিও।
উৎসব চলাকালে লালগালিচায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তারকা, নির্মাতা ও প্রযোজকেরা। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি নতুন প্রকল্প, আন্তর্জাতিক সহ-প্রযোজনা এবং বৈশ্বিক পরিবেশনা চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়, যা আগামী বছরের চলচ্চিত্র বাজারকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো আগামী মৌসুমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব এবং পুরস্কার আসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ‘Fjord’ ইতোমধ্যেই বছরের অন্যতম সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে এবং একে ঘিরে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক পুরস্কারের দৌড়ও জমে উঠতে পারে।
বিশ্ব সিনেমার শিল্পমান, বৈচিত্র্য এবং নতুন সৃজনশীল কণ্ঠকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কান চলচ্চিত্র উৎসবের ঐতিহ্য আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন পাম দ'অর বিজয়ীর হাত ধরে কান ২০২৬ শেষ হলেও, বিশ্ব চলচ্চিত্রের জন্য এটি হয়ে থাকবে নতুন সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।