নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন মাচাদোর সহযোগী

প্রকাশঃ Sep 28, 2026 - 20:42
নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন মাচাদোর সহযোগী


নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ক্লদিয়া মাসেরো রোববার নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন। 

বিমানবন্দরে পৌঁছালে শত শত মানুষ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানান।

কারাকাসে যাতায়াতের প্রধান বিমানবন্দরে মাসেরো পৌঁছালে সমর্থকেরা উল্লাস করে তাকে স্বাগত জানান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে মাচাদোকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এরপর ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারসহ দেশটির বিভিন্ন সম্পদ ও সুবিধা পাওয়ার দাবি করেন এবং তা অর্জনও করেন।

মাচাদোর গণমাধ্যমবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনাকারী মাসেরো সমর্থকদের সঙ্গে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়ে বলেন, ‘দেশে ফেরার সময় এসেছে। দেশের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নেওয়ার সময় এসেছে।’

গত ডিসেম্বরে মাচাদো আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে নরওয়েতে যান এবং সেখানে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন। পরে অল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি বর্তমানে পানামা সিটিতে বসবাস করছেন।

মাচাদোর রাজনৈতিক দল ভেন্তে পার্টির দাবি, তিনি ভেনেজুয়েলায় ফেরার জন্য এ পর্যন্ত সাতবার চেষ্টা করেছেন।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, মাচাদোকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার পেছনে ওয়াশিংটনের ভূমিকা রয়েছে। 

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং কার্যত দেশটির ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। 
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সাত সহযোগীর অন্যতম ৩৪ বছর বয়সী মাসেরো। 

২০২৪ সালের মার্চে ওই সাতজন গ্রেফতার এড়াতে কারাকাসে আর্জেন্টিনার দূতাবাসে আশ্রয় নেন। ওই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশটিতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বেড়ে যাওয়ার সময় তারা সেখানে প্রায় এক বছর অবস্থান করেন।

২০২৫ সালের মে মাসে ওই সাতজন দূতাবাস থেকে বেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। 

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে সেই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।