ঝিনাইদহে হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হয়েছেন
জেলার সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চঞ্চল (৫০) শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার বাসিন্দা।
ঝিনাইদহ সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার হোসেন মিনা জানান, ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদের পুলিশ লাইনের সামনে একটি গ্রীলের দোকান ছিল। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারী ব্যবসাও করতেন।
চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারী কাজের কিছু টাকা চঞ্চলের কাছে পেতেন সুলতান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও চলছিল। এরই জের ধরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় মোবাইলে সুলতানকে ডেকে নেয় চঞ্চল।
পরদিন ৩০ জুন সকালে উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিল চঞ্চল বিশ্বাস। হত্যা মামলার তদন্ত শেষে চঞ্চল ও জাহাঙ্গীর আলম নামে ২জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৭ জুন আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। আসামিরা উচ্চ আদালতে মামলাটির বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করলে আদালত বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেন। গত মাসে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর সিআইডি’কে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত।
পুলিশ পরিদর্শক আখতার হোসেন মিনা আরো বলেন, মামলার তদন্ত ভার পাওয়ার পর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে আমরা তাকে গ্রেফতার করি। আসামি নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস রেখে আশুলিয়ার কাঠগড়ার আলম মার্কেট এলাকায় ব্যবসা করে আসছিল। অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা যায়। মামলার তদন্ত চলছে। নতুন কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আসামি চঞ্চলকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

