ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ায় বেঁচে যাওয়া মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশঃ Sep 28, 2026 - 20:42
ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ায় বেঁচে যাওয়া মানুষের দুর্ভোগ


ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর ছয় সপ্তাহ পরও সাহরিয়া লেলু ও তার পরিবার একটি মসজিদের বাইরে তাঁবুতে বসবাস করছেন। হাজারো মানুষের ঘরে ফেরার পথ যে কতটা কঠিন, তাদের অবস্থাই তার প্রমাণ।

গত ১৫ আগস্ট ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রটির পানির সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর থেকে সেখানে প্রায় ১৫ হাজার ভূমিকম্প পরবর্তী পরাঘাত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার নাগেকেও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোর একটি নাগেকেও জেলার ৩৮ বছর বয়সী বাসিন্দা সাহরিয়া বলেন, ‘আমরা বাড়ি ফিরতে পারছি না। কারণ আমরা এখনো আতঙ্কিত। খুবই আতঙ্কিত।’

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই দুর্যোগে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সাহরিয়া বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এখানে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকেরাও আমাদের সহায়তা করছেন।’
ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সমুদ্রের পানি সাহরিয়ার পরিবারের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছলেও সেটি ধ্বংস হয়নি। তবে পরাঘাতে আরও ভয়াবহ ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র বার্টন পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে ৪৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

সেপ্টেম্বরে এর আগে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার যে সংখ্যা জানানো হয়েছিল, সর্বশেষ সংখ্যা তার চেয়ে কম। তবে এটি পুরো পরিস্থিতির চিত্র নয়।
বাড়িতে ফিরে যাওয়া অনেক মানুষও ঘরের বাইরে তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন। নতুন কোনো ভূমিকম্পে বাড়ি ধসে পড়তে পারে— এমন আশঙ্কায় তারা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

পানীয় জল নিয়ে শঙ্কা
ফ্লোরেসের সিক্কা জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাইরে বসে মারিয়া ওনসেলিয়া বলেন, দুর্যোগের পর থেকে তার বোনা কাপড় বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজে পেতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

৫৯ বছর বয়সী মারিয়া আরও বলেন, ‘খাবারের জোগাড় করতেই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এই মৌসুমে পানি পাওয়া কঠিন। চাল কেনার আগে আমাদের পানি কিনতে হয়।’

তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। তাই তাঁবুতে বসবাস করছেন।

নাগেকেও জেলার উপপ্রধান গনজালো গ্রাতিয়ানুস মুগা সাদা বলেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ৩১৪টি অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র বার্টন বলেন, ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের পরিবর্তে সরকার ২ হাজার ৪০০টির বেশি স্থায়ী আবাসন নির্মাণ করবে।

ফ্লোরেসের উত্তরে পাশের ছোট্ট পালুয়ে দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দুর্যোগের পর থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের পানীয় জল নিয়েও উদ্বেগে থাকতে হচ্ছে।

বাসিন্দারা প্রয়োজন মেটাতে পানি কিনছেন। পাশাপাশি আগ্নেয় দ্বীপটির ভূ-তাপীয় উৎস থেকে বাঁশের নল ব্যবহার করে বাষ্প সংগ্রহ ও ঘনীভূত করেও পানি সংগ্রহ করছেন।

৪০ বছর বয়সী শিক্ষক মেথিলডুস নেস্টর লাঙ্গা বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগের বিষয় হলো বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট। কারণ বর্তমানে পুরো এলাকাই শুকিয়ে গেছে। পানির সব সংরক্ষণ ট্যাংক ভেঙে গেছে।’

অনেক বেঁচে যাওয়া মানুষের কাছেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ এখনো দূরের মনে হচ্ছে।

সাহরিয়া জানান, তিনি জানেন না আর কতদিন তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হবে। তার গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।

ভূমিকম্পে সাহরিয়া স্বামীর গাড়ি ও মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পরিবারের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সংসার চালাতে সাহরিয়াকে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে।

সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাড়সহ পরিবারের দুর্ভোগ কাটাতে সরকারের সহায়তা চান তিনি।
সাহরিয়া বলেন, ‘দয়া করে আমাদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করুন।’