চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসমুক্ত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে কার্যকর শাসনের আওতায় আনা এবং সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করতে সরকার একগুচ্ছ সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি জোরদার করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অবৈধ বাসিন্দাদের পুনর্বাসন এবং সরকারি খাস জমি ব্যবস্থাপনা।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ভূমি প্রশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক উপস্থিতির মাধ্যমে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যার সমাধান করা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনসহ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), কোস্ট গার্ড এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জঙ্গল সলিমপুর বিষয়ক এক সমন্বিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগও অংশ নেয়।
বৈঠকের শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে এলাকায় নির্মিত সড়ক নেটওয়ার্কের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সরকার সড়ক নির্মাণের এই অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্ত্রী জানান, বিস্তৃত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে জঙ্গল সলিমপুরে একটি পুলিশ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রস্তাবিত একাডেমির জন্য বর্তমানে জমি খোঁজা হচ্ছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও এই এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, কারাগার স্থানান্তরের জন্য বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে ইতিমধ্যে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বসবাস শুরু করা লোকদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও করছে সরকার। পাশাপাশি এলাকায় পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, মূল উদ্দেশ্য হলো সমগ্র এলাকাকে একটি সুশৃঙ্খল শাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে আনা।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাটি সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল। এটিকে সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হবে। স্থায়ী নিরাপত্তা উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জন্যও জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেখানে তাদের নিজস্ব সুবিধা ও অবকাঠামো তৈরি করবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা এসব সমন্বিতভাবে করছি যাতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন মৌজার সরকারি জমি, তা পাহাড় বা খাস জমি যাই হোক না কেন, সুশাসনের আওতায় আনা যায়।

