মিরপুরে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের

প্রকাশঃ Oct 9, 2026 - 15:18
মিরপুরে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের


রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড জোরপূর্বক দখল, গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি এবং লেগুনার মালিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, হামলার শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংগঠনের অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থক ও সহযোগী বিপ্লব,সোলেমান দেওয়ান,ফারুক হোসেন,মহাব্বত আলী,মাবেল ভূইয়া,তৈয়ব আলী,আলমগীর হোসেন,শামীম,মজিবরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে লেগুনা স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়।

গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, লেগুনার মালিকদের কাছ থেকে প্রতিটি গাড়ির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ ছাড়া লেগুনার মালিক ইয়াকুব আলী এবং নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামের আরও দুই ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইয়াকুব আলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট সংগঠনের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার শিকার ইয়াকুব আলী নিজের ওপর হামলার বিষয়ে দারুস সালাম থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানান নেতারা।

ভিডিও ফুটেজ ও নথিপত্র থাকার দাবি

সংগঠনের নেতারা জানান, অভিযোগের সমর্থনে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা চাইলে এসব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে তাঁরা প্রস্তুত।

তাঁদের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, চাঁদা দাবি, হামলা ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের প্রতি অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে লেগুনা মালিক ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্ট্যান্ড পরিচালনায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চাঁদাবাজিমুক্তভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লেগুনার মালিক মো. ইয়াকুব আলী।