২০৩১ সালের মধ্যে চীনে ঋণ কার্যক্রম বন্ধের পরিকল্পনা নিশ্চিত বিশ্বব্যাংকের

প্রকাশঃ Jul 26, 2026 - 21:29
২০৩১ সালের মধ্যে চীনে ঋণ কার্যক্রম বন্ধের পরিকল্পনা নিশ্চিত বিশ্বব্যাংকের


বিশ্বব্যাংক বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, ২০৩১ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে চীনে তাদের ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। 
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির জন্য প্রণীত নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ)-এ  পরিকল্পনাটি তুলে ধরা হয়েছে।

গত মাসে এএফপি প্রথম এ বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থার এমন পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করে। 

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (ডব্লিউবিজি) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের (আইবিআরডি) মাধ্যমে দেওয়া ঋণ সিপিএফ মেয়াদকালে ধাপে ধাপে কমানো হবে। এর পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হবে না।’

ওয়াশিংটনর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সিপিএফ হলো বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মত একটি পরিকল্পনা। এতে কয়েক বছরের উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নীতিগতভাবে সিপিএফ মেয়াদ শেষে আইবিআরডি থেকে আর কোনো নতুন ঋণ নেওয়ার কথা নয়।’

ডব্লিউবিজি বলেছে, পাঁচ বছরের এ সিপিএফ ‘৪৫ বছরের অংশীদারত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।’ কারণ, অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা থেকে সরে এসে চীনের এখন মূলত কারিগরি সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) আনা বেয়ার্দে বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এখন আমরা জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং অভিন্ন সমাধানের ওপর ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের হার কমে আসায় দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

তিনি বলেন ‘চীন যখন একটি বার্ধক্যগ্রস্ত সমাজ, পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং অন্যান্য উন্নয়ন অগ্রাধিকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, তখন আমরা এর পাশে থেকে এমন ধারণা তৈরি করতে কাজ করব যা কেবল চীনের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে উদীয়মান বাজারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

চীনের উপ-অর্থমন্ত্রী লিয়াও মিন বলেন, ঋণ সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হলেও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

চীনের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের নতুন পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং স্বল্প-কার্বন অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাংককে চীনে ঋণ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে সময় ওয়াশিংটন তার প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেয়।

দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প একই ধরনের অবস্থান বজায় রেখেছেন। তবে চীনে ঋণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি তিনি আর সরাসরি পুনর্ব্যক্ত করেননি।

চীনে বিশ্বব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫ সালে তা কমে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে আসে।