COP31 সামনে রেখে জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজনে নতুন অঙ্গীকারের প্রত্যাশা, প্রস্তুতি শুরু উন্নয়নশীল দেশগুলোর

প্রকাশঃ Jan 18, 2026 - 20:58
COP31 সামনে রেখে জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজনে নতুন অঙ্গীকারের প্রত্যাশা, প্রস্তুতি শুরু উন্নয়নশীল দেশগুলোর


মোঃ মামুনুর রশিদ

জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন COP31-কে সামনে রেখে উন্নয়নশীল ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো তাদের কূটনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন কার্যক্রম, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা (Loss and Damage) এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ—এ চারটি বিষয়কে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার দাবি উঠছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে। 

জলবায়ু বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প নেই।

পরিবেশ গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, COP31-এ উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বাস্তবভিত্তিক অর্থায়নের রোডম্যাপ, অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা কাঠামো ঘোষণা করা হলে তা বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের আলোচ্যসূচি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, COP31 শুধুমাত্র নতুন প্রতিশ্রুতির সম্মেলন নয়; বরং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

বাংলাদেশের পরিবেশবিদদের মতে, এবারের সম্মেলনে দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, জলবায়ু অভিবাসন, কৃষি অভিযোজন এবং জলবায়ু অর্থায়নে সরাসরি প্রবেশাধিকারের বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।