ফ্রান্সে নিয়ন্ত্রণে আসছে দাবানল, স্পেনেও উন্নতি
ফ্রান্সে ভয়াবহ বন দাবানল আর ছড়িয়ে পড়ছে না বলে বৃহস্পতিবার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন দমকলকর্মীরা। একই সময়ে স্পেনের মাদ্রিদের কাছে আর কোনো স্থানে আগুন জ্বলছে না।
তবে পর্তুগাল সীমান্তের কাছে নতুন করে আরেকটি দাবানল শুরু হয়েছে।
এ বছর একের পর এক তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে ইউরোপ।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই এর প্রধান কারণ।
ফ্রান্সের লেজ-ক্যাপ-ফেরেট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত এক সপ্তাহে প্রতিবেশী দুই দেশে স্মরণকালের ভয়াবহতম কয়েকটি বন দাবানল দেখা দিয়েছে।
এতে বিশাল এলাকা পুড়ে গেছে। কয়েক হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে।
ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার বোর্দোর কাছে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এতে সমুদ্রতীরবর্তী পাইন বনের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের একটি অংশকে বাড়ি ফিরতে অনুমতি দিয়েছে।
লেজ-ক্যাপ-ফেরে শহরে বজ্রধ্বনি শোনা যায়। এরপর উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ে।
১৯৪৯ সালের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলটি এ এলাকাতেই দেখা দেয়।
শহরের ক্রীড়া কমপ্লেক্সে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকা এক দমকলকর্মী বলেন, ‘বজ্রপাত হচ্ছে, এটা ভালো লক্ষণ।’
আঞ্চলিক দমকল বিভাগ জানায়, তারা আশাবাদী। কারণ, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া দাবানল সপ্তাহ শেষে আর ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকায় ছড়ায়নি।
এ আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের চেয়েও বড়।
এ দাবানলে ২৪০টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
আঞ্চলিক দমকল প্রধান মার্ক ভারমেউলেন বলেন, আগুন আবার যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য বনভূমির ভেতরে ও প্রান্তে থাকা আগুনের অবশিষ্ট অংশে আরও কয়েক দিন পানি ছিটাতে হবে।
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়ি ফিরতে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে বোর্দো থেকে দক্ষিণমুখী মহাসড়কও আবার খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্পেনে নতুন দাবানল
এএফপির এক প্রতিবেদক জানান, সান মার্তিন দে ভালদেইগলেসিয়াস শহরের বাইরে একটি দমকল স্টেশনের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহ থেকে মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলের এ দাবানলে ২৭ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে অন্তত ১০০টি বাড়ি।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে মাত্র ১ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে ছিলেন। বুধবার কয়েক হাজার মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
তবে বুধবার স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলের ফেরমোসেল্লে এলাকায়, পর্তুগাল সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নতুন একটি দাবানল শুরু হয়েছে। এতে ৬০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে।
এ ছাড়া আরও পশ্চিমে আভিলা অঞ্চলে গত সপ্তাহ থেকে জ্বলতে থাকা দাবানলটি ১৯৬১ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর স্পেনের সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
আমরা বাড়িটা বিক্রি করে দেব
বারবার তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।
বোর্দোর উবারচালক কেভিন মন্টমার্ত্র বলেন, দাবানল শুরু হওয়ার পর তাকে তিনবার বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে। এ কারণে সমুদ্রতীরবর্তী শহর আন্দেরনো-লে-ব্যাঁতে থাকা নিজের বাড়ি নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবছেন।
বোর্দোতে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সময় নিজের টেসলা গাড়ি চালাতে চালাতে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি বিষয়টি স্ত্রীকে নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামী কয়েক বছরে যদি আবার এমন আগুন লাগে, তাহলে আমরা বাড়িটা বিক্রি করে দেব।’
এদিকে ইউরোপের অন্য অংশে বুধবার গভীর রাতে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের একটি পর্যটনকেন্দ্রের দিকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারও প্রবল বাতাসে আগুন জ্বলতে থাকে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা মারিয়া লিওনি বলেন, দাবানলে বাড়িঘর, কৃষি স্থাপনা ও গৃহপালিত পশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন এখনো জ্বলতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যায়নি।
অন্যদিকে তুরস্কেও অন্তত ১১৫টি দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে।
তবে দেশটির কৃষিমন্ত্রী ইব্রাহিম ইয়ুমাকলি জানান, এর মধ্যে অন্তত ১১০টি স্থানের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।