কাজীফরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
জয়নাল আবেদীন
রাজধানীর মিরপুর-১ এর গুদারাঘাটে অবস্হিত কাজীফরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন দৃষ্টিনন্দন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি আদর্শ ও মডেল বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা-১৪ আসনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।
ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিন, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য সচিব ও সমাজসেবক,শিক্ষানুরাগী মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, পিডিএলএসডব্লিউ-এর ডিজি আহমেদ ফিরোজ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল হাসান, থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জামিলা আক্তার এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনজিদা খাতুন,বিশিষ্ট সমাজ সেবক একে আজাদ লেলিন,সেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইকবাল হোসেন,বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া,বিদ্যালয়ের সভাপতি হাসানুল কবির মবিন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে শ্রমিক দলের গোলাম রসুল পারভেজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক,শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। এ সময় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “যারা এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এর উন্নয়নে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই বিদ্যালয়কে শুধু একটি ভবন হিসেবে নয়, বরং এলাকার শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, কাজীফরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে অধিক শিক্ষার্থীর পড়ার সুব্যবস্হায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানে আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন,একটি আধুনিক মডেল স্কুলে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তার সবকিছুই এই বিদ্যালয়ে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সবুজায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর,নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করা হবে।
প্রধান অতিথি বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু লেখাপড়ার জায়গা নয়,এখান থেকেই শিশুদের দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন,শিশুদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়, দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।একটি সুন্দর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একটি এলাকার সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।
ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সরকারের শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাজীফরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিন বলেন,একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুদের ওপর। তাই শিশুদের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়, এটি এলাকার আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম। তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল বলেন,শিক্ষার বিকল্প নেই। একটি সুন্দর পরিবেশে শিশুরা বেড়ে উঠলে তাদের মেধা ও মনন আরও বিকশিত হয়। কাজীফরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পিডিএলএসডব্লিউ-এর ডিজি আহমেদ ফিরোজ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন ভবনের যথাযথ ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত মান বজায় রেখে ভবন নির্মাণের পাশাপাশি এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল হাসান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে একজন শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো যত উন্নত হবে, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার সুযোগও তত বাড়বে।”
থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জামিলা আক্তার বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নতুন ভবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও সুন্দর ও আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনজিদা খাতুন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কাজীফরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শুধু অবকাঠামোগত দিক থেকেই নয়, শিক্ষার মান, পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও একটি আধুনিক মডেল বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বে ছিলেন বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো:হাসানুল কবির মবিন