কালিয়াকৈরে নকল সিগারেটের কারবারের সন্ধান
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবৈধ ও নকল সিগারেট উৎপাদনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট, প্রসেসড টোব্যাকো ও সিগারেট তৈরির কাঁচামাল অ্যাসিটেট টো উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। অভিযানে র্যাব-১-এর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানে Lucky Strike, Derby ও Royals ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট পাওয়া যায়। পাশাপাশি সিগারেট তৈরিতে ব্যবহৃত প্রসেসড টোব্যাকো এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল অ্যাসিটেট টোও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সিগারেটের প্যাকেটে কোনো রাজস্ব স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল পাওয়া যায়নি।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ছাড়া সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। এ কারণে উদ্ধার করা পণ্যের উৎস, উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
শামস টোব্যাকোর বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ
সিআইআইডি সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার পাঁচগাছী এলাকায় অবস্থিত Shams Tobacco (শামস টোব্যাকো)-এর বিরুদ্ধে এর আগে ব্যান্ডরোলবিহীন বা নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তবে এবারের অভিযানে উদ্ধার হওয়া নকল সিগারেট, প্রসেসড টোব্যাকো ও অ্যাসিটেট টোর সঙ্গে শামস টোব্যাকোর সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থা।
খতিয়ে দেখা হচ্ছে সরবরাহ-শৃঙ্খল
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার করা পণ্যের প্রকৃত উৎস এবং কোথায় এগুলো উৎপাদন বা সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে কাঁচামাল সংগ্রহের উৎস, পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বিশেষ করে নকল সিগারেটের প্যাকেটে রাজস্ব স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব পণ্য বাজারে সরবরাহের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কি না, তদন্ত শেষে তা নিরূপণ করা হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ উৎপাদন, নকল পণ্য বাজারজাতকরণ কিংবা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার করা পণ্যের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সম্পৃক্ততার দাবি করা হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।