শিল্পবর্জ্য ও দূষণে সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে: পানি সম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশঃ Sep 27, 2026 - 21:20
শিল্পবর্জ্য ও দূষণে সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে: পানি সম্পদ মন্ত্রী


পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, চারপাশে প্রচুর পানি থাকলেও শিল্পবর্জ্য ও দূষণের কারণে সেই পানি ব্যবহারের উপযোগী থাকছে না। ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ১১টি শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য পরিবেশ ও পানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত ‘বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উদযাপন ও মার্ক এঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড গিভিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুধু গভীর নলকূপ স্থাপন করে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তেলের জন্য যে যুদ্ধ চলছে, খুব শিগগিরই সুপেয় পানির জন্যও সেই যুদ্ধে নামতে হতে পারে। তখন হয়ত টাকা বা ডলার দিয়েও পানি পাবেন না।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নির্বাচনি এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন পাওয়া পাই। কিন্তু চার থেকে সাড়ে চার লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে বছরে ৩০০ থেকে ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, দূষিত পানিতে গোসল করাও ঠিক নয়। কিছু এলাকায় মাছ চাষ হলেও দূষণের কারণে সেসব মাছ খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় পানিতে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন।

পানির সংকট মোকাবিলায় এটিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, সরকারের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিয়ে সবাইকে এতে যুক্ত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনীতি করে, নেতৃত্ব দিয়ে কিংবা আন্দোলন করে দেশকে গণতান্ত্রিক রূপ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। এখন আমাদের বাঁচার জন্যও আন্দোলন করতে হচ্ছে। এই প্রজন্মকে আগামী প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করে নতুন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অধিকার ও দাবিগুলো তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে বাংলাদেশ যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।