আফ্রিকায় অভিবাসী কেন্দ্র স্থাপনে ৫ দেশের উদ্যোগ ইইউতে বহিষ্কার নিয়ে আলোচনা

প্রকাশঃ Oct 1, 2026 - 21:53
আফ্রিকায় অভিবাসী কেন্দ্র স্থাপনে ৫ দেশের উদ্যোগ ইইউতে বহিষ্কার নিয়ে আলোচনা


ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বৃহস্পতিবার অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করবে। একই সময়ে জোটের পাঁচটি দেশ ইইউ’র বাইরে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠাতে বিতর্কিত ‘ফেরত কেন্দ্র’ স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

ব্রাসেলস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

জোটের ২৭টি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা লুক্সেমবার্গে বৈঠকে বসছেন। চলতি মাসে জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের বড় ধরণের সাফল্যের মধ্য দিয়ে ইইউজুড়ে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব জোরালো হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

বৈঠকের কর্মসূচি অনুযায়ী, ইইউ-তে থাকার অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ক্ষেত্রে ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত’ তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে ‘বর্ধিত সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া আরও কঠোর নতুন ইইউ বিধিমালায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এসব বিধিতে কর্তৃপক্ষের আটক করার ক্ষমতা অনেক বাড়ানো হবে। পাশাপাশি তথাকথিত ‘ফেরত কেন্দ্র’ স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি দেশগোষ্ঠী জোরালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। এসব কেন্দ্র স্থাপনের জন্য রুয়ান্ডাকেই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গ্রিনস গ্রুপের দুই ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা বুধবার জানান, আফ্রিকার দেশটি ও প্রতিবেশী উগান্ডায় তাদের অনুসন্ধানী সফর থেকে মনে হয়েছে, দুই দেশই এ বিষয়ে আগ্রহী।

মানবাধিকারসহ বিভিন্ন উদ্বেগের কারণে ফেরত কেন্দ্রের বিরোধিতা করা আইনপ্রণেতা আন্না স্ট্রোলেনবার্গ ও টিনেকে স্ট্রিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কিগালির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইইউর পাঁচ দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ডাচ পার্লামেন্টের সদস্য স্ট্রোলেনবার্গ বলেন, ‘সম্ভবত রুয়ান্ডার সঙ্গেই প্রথম কোনো চুক্তি হবে।’

ইইউ’র সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেশ এখন পর্যন্ত কোন কোন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে, তা জানায়নি।

সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা-

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানস পলেভরিস এ সপ্তাহে বলেছেন, ২০২৭ সালে একটি আফ্রিকান দেশে কেন্দ্র খোলার লক্ষ্য নিয়েছে এথেন্স। দেশটির সঙ্গে ইতোমধ্যে আমরা একমত হয়েছি।’ তবে এখনো দেশটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সমর্থকদের মতে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের চূড়ান্ত গন্তব্য অথবা স্থানান্তরকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ফেরত কেন্দ্রগুলো তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে। একই সঙ্গে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশে আগ্রহীদের নিরুৎসাহিত করতেও এসব কেন্দ্র ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সমালোচকেরা এসব কেন্দ্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই ধরণের প্রকল্পে দেখা দেওয়া নানা জটিলতার কথা তুলে ধরে তারা এগুলোকে এমন ‘আইনি অন্ধকূপের’ সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে অভিবাসীরা পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়াই অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকা পড়তে পারেন।

চলতি গ্রীষ্মে স্পেনে উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউতায় অভিবাসীদের ঢল ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তাকে বড় ধরণের পরীক্ষার মুখে ফেলে। একই সঙ্গে স্পেন ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান নেওয়া ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধও তৈরি হয়। এরপর লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি হবে ইইউ মন্ত্রীদের প্রথম সরাসরি বৈঠক।

মাদ্রিদ তার উত্তর আফ্রিকার ওই ভূখণ্ডের পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

ভবিষ্যতে এ ধরণের সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলার প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে।

ইইউ’র প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন এ মাসে বলেছেন, ব্যাপক অভিবাসন প্রবাহ আরও ভালোভাবে মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোকে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় কমিশন একটি জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তাব করবে। তবে এর বিস্তারিত এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ইউরোপের আগাম সতর্ক ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জোটের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে।