ইমরানপন্থীদের বিক্ষোভ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকারের আলোচনায় অচলাবস্থা
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের বড় ধরনের বিক্ষোভ এড়াতে পাকিস্তান সরকার ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে আলোচনা রোববার অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। এ অবস্থায় ইমরানের সমর্থকরা তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীদের আগমন ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইমরানের দল পিটিআইয়ের সমর্থকদের পরিকল্পিত মিছিল প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। পরে তা পিছিয়ে রোববারের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়, পিটিআই-শাসিত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি রোববার ভোরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইমরানের সমর্থনে ‘লং মার্চ’ অনুষ্ঠিত হবে।
ইমরানকে কারাগারে রাখার ঘটনায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অসন্তোষ বেড়েছে। বিশেষ করে ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা এবং তার সঙ্গে চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
পিটিআই ইমরানের তিন বোনের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে। গত মাসে তাদের গ্রেপ্তার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
বিরোধী রাজনীতিক আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জানান, সরকার ও পিটিআই প্রতিনিধিদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের আলোচনা ‘অচলাবস্থায়’ পৌঁছেছে।
জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও টিভিকে আব্বাস বলেন, ইমরানের চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আলোচনাকারীরা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।
জনপ্রিয় সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের পর দুর্নীতি থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইমরান ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাদের দাবি, তার জনপ্রিয়তা নিষ্ক্রিয় করার উদ্দেশ্যেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এসব মামলা করা হয়েছে।
আফ্রিদি জানান, রোববার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদ থেকে ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) পশ্চিমে খাইরাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর পরের কর্মসূচি খাইরাবাদে ঘোষণা করা হবে বলে প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী জানান। তবে বিক্ষোভকারীরা কবে পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেননি।
বিক্ষোভের প্রস্তুতি হিসেবে ইসলামাবাদের প্রধান প্রবেশপথগুলোতে কর্তৃপক্ষ একটির ওপর আরেকটি করে মালবাহী কনটেইনার রেখে সড়ক অবরুদ্ধ করেছে। এতে যান চলাচল ও গণপরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে চিকিৎসার জন্য বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। তবে সেখানে অল্প সময় থাকার পর কর্তৃপক্ষ তাকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

