থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০
থাইল্যান্ডে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বন্যায় দেশজুড়ে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। কয়েকটি অঞ্চলে নদীর পানির উচ্চতা এখনও বাড়ছে।
গত মাসের শেষ দিকে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিতে রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। তবে সেখানে এখন বন্যার পানি অনেকটাই নেমে গেছে।
ব্যাংকক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মধ্যাঞ্চলীয় প্রাচিনবুরি প্রদেশের পরিস্থিতি এখনও কঠিন। দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৯ জন মারা গেছেন।
বিভিন্ন নদীর পানি উপচে প্রদেশটির সাতটি জেলার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভাগটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
দেশটির আরও প্রায় এক ডজন প্রদেশ ও রাজধানীতে বন্যায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগটি জানায়, থাইল্যান্ডের ৭৭টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতে এখনও বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ব্যাংককে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেখানে এক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুরো নগরীকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছিল।
আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংকক। এ কারণে বর্তমানে শহরজুড়ে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে।
বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনসমালোচনার মুখে থাকা প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সোমবার সরকারি সংস্থাগুলোকে বন্যা ও পরিবহন ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে বৈঠকগুলোতে কোনো ধরণের বিঘ্ন না ঘটে।
সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের বর্ষাকালের সর্বোচ্চ সময়। তবে এ বছর ব্যাংককের অনেক বাসিন্দার কাছে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মনে হয়েছে। জলাভূমির ওপর গড়ে ওঠা শহরটির বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য খাল রয়েছে।
কয়েক দিন ধরে কোনো কোনো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে ছিল। পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কে যানবাহন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। দুই দিন বন্ধ ছিল স্কুল।

