তানজিদের সেঞ্চুরিতে ১৫৩ রানের লিড বাংলাদেশের
ওপেনার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ-সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনর শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে বাংলাদেশ। তানজিদ ১০১ ও শান্ত ৮৪ রান করেন।
ডারউইনের মারার স্টেডিয়ামে টেস্টের প্রথম দিনই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর নিজেদের ইনিংস শুরু করে প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে ছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তানজিদ-মোমিনুল। তানজিদ ৩২ ও মোমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় দিন হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আউট হন মোমিনুল। অস্ট্রেলিয়া পেসার জশ হ্যাজেলউডের প্রথম শিকার হওয়ার আগে ৮টি চারে ৪৯ রান করেন মোমিনুল।
তানজিদের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ১৮৯ বলে ১০২ রানের জুটি গড়েন মোমিনুল। এই জুটি গড়া পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ।
দলীয় ১৩৮ রানে মোমিনুল ফেরার পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে ১৫৭ বল খেলে স্কোর বোর্ডে ৯৩ রান যোগ করেন তানজিদ। এই জুটিতেই শান্ত সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি এবং তানজিদ টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতরানের দেখা পান। ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সহায়তায় ১৮৮ বল খেলে তিন অঙ্কে পা রাখেন তানজিদ।
সাবেক বাঁ-হাতি ব্যাটার শাহরিয়ার নাফীসের পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে অসিদের বিপক্ষে ১৩৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেছিলেন নাফীস।
সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তানজিদ। অস্ট্রেলিয়া স্পিনার নাথান লায়নের বলে স্টার্ককে ক্যাচ দিয়ে থামেন তিনি। ১০১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।
দলীয় ২৩১ রানে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তানজিদ আউট হবার পর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন শান্ত। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৮৪ রানে থামেন তিনি। পেসার হ্যাজেলউডের বলে দলীয় ২৯৭ রানে স্লিপে স্টিভেন স্মিথকে ক্যাচ দেন ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১২৬ বলে ৮৪ রান করা শান্ত। মুশফিক-শান্ত জুটি ৬৬ রান যোগ করেন।
শান্তর আউটের পর ২৩ বল ও ১১ রানের ব্যবধানে মুশফিক এবং লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। দুজনই স্লিপে স্মিথকে ক্যাচ দেন। মুশফিক ৩৬ রানে কামিন্সের এবং লিটন শূন্য হাতে স্টার্কের শিকার হন। ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতন হয় বাংলাদেশের।
এরপর দিনের বাকী সময় অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ১৪৭ বল খেলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তবে দিনের শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে জীবন পান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার বোলার মার্নাস লাবুশেনের করা দিনের শেষ ওভারের শেষ বলে গালিতে মিরাজের ক্যাচ ফেলেন ক্যামেরন গ্রিন। ৩ চারে ৩২ এবং বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ও হ্যাজেলউড ২টি করে উইকেট নেন।