চট্টগ্রামে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বিশ্বে প্রতি ৯ মিনিটে একজন মানুষ জলাতঙ্কে মারা যাচ্ছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু। ভারত, চীন ও বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বেশি হলেও সচেতনতা, প্রাণীর টিকাদান এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব তথ্য জানান। ‘একসাথে, আরও শক্তিশালী-জলাতঙ্ক মুক্ত বিশ্ব গড়ি’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাইভেট ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম ডেইরি খামারি নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। র্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ভেটেরিনারি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান।
বক্তারা বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হন, যাদের প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু। ভারত, চীন ও বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বেশি। ফলে প্রাণীদের টিকাদানের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কুকুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর টিকাদান, আক্রান্ত প্রাণী শনাক্তকরণ, কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এসব কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।