মন্ট্রিল সম্মেলনে ইইউ-কানাডা জোটের নতুন অধ্যায় শুরুর উদ্যোগ

প্রকাশঃ Oct 29, 2026 - 16:43
মন্ট্রিল সম্মেলনে ইইউ-কানাডা জোটের নতুন অধ্যায় শুরুর উদ্যোগ


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনিশ্চিত সম্পর্কের মধ্যে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের জোটের ‘নতুন অধ্যায়’ সূচনা করতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মন্ট্রিলে শুরু হতে যাওয়া এক সম্মেলনে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইইউর প্রধান।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন গত মাসে কানাডাকে ২৭ সদস্যের ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।

মন্ট্রিল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে ইইউর চুক্তিগুলোতে ‘সহযোগী সদস্য’ বলে কোনো মর্যাদা নেই। জোটের কয়েকটি সদস্যদেশের চাপে সম্মেলন-সংক্রান্ত যৌথ বিবৃতি থেকেও শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

তবে বুধবার মন্ট্রিলে পৌঁছানোর পর ফন ডার লিয়েন আবারও শব্দটি ব্যবহার করেন। 

তিনি বলেন, ‘কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার বিষয়ে কীভাবে আলোচনা শুরু করা যায়, তা নিয়ে আমরা কথা বলব।’

লিয়েন আরও বলেন, ‘মন্ট্রিলে আমাদের অভিন্ন ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডা ও ইইউ—উভয় পক্ষই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে কানাডার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী কানাডাকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকি ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কখনো কখনো ‘পেনসিল দিয়ে’ চুক্তি করে, অর্থাৎ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার বিষয়ে নির্ভর করা যায় না। 

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এখন জরুরি অগ্রাধিকার বলেও তিনি কানাডীয়দের জানিয়েছেন।

সম্মেলনের আগে কার্নি বলেন, ‘বিশ্ব এখন আরও বিপজ্জনক ও বিভক্ত। এর জবাবে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরস্পরের শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।’

তিনি ‘নতুন ও উচ্চাভিলাষী জোট’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন।

ইইউও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ইউরোপের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফন ডার লিয়েন বলেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে থাকায় ইইউ ‘বিশ্বস্ত অংশীদারদের’ সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘কানাডার সঙ্গে শুরু করাটাই স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।’

যে সব বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে

ইইউ ও কানাডার মধ্যে ইতোমধ্যেই একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। তবে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। 

কানাডার কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপে নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ খুঁজছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইইউর এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন অংশীদারত্বের আওতায় জলবায়ু, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতির সমন্বয় করা হবে। এর ফলে অটোয়া ইইউর কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে এবং উভয় পক্ষের জন্য একটি অভিন্ন শাসনকাঠামো গড়ে উঠবে।

সম্প্রতি ইইউর সম্মেলন ও মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য কানাডাকে দেওয়া আমন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করেই এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হবে।

সবুজ প্রযুক্তি, বিশেষ করে ব্যাটারি ও বায়ুকল তৈরিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিপুল মজুত রয়েছে কানাডায়। বর্তমানে ইউরোপ এসব খনিজের বেশির ভাগই চীন থেকে সংগ্রহ করে।

তবে কানাডার খনিজ উত্তোলন শিল্পকে গতিশীল করতে বিপুল অবকাঠামো বিনিয়োগ প্রয়োজন। সম্মেলন থেকে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার আওতায় ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক কানাডার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করতে পারবে।

মন্ট্রিল সম্মেলনে ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে লেনদেন আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। যৌথ বিবৃতির একটি প্রাথমিক খসড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো ও এ-সংক্রান্ত বিধিবিধানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ছিল।

এ ছাড়া কানাডার শিক্ষার্থীদের ইইউর ‘ইরাসমাস’ যুব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে অটোয়া ও ব্রাসেলস কাজ করছে বলে জানা গেছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক সেমিস্টারসহ বিভিন্ন মেয়াদে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পান।

কার্নি এ সপ্তাহে বলেছেন, সহযোগী সদস্যের মর্যাদা নিয়ে কিংবা নতুন জোটকে বোঝাতে ‘নির্দিষ্ট কোনো নাম বা পরিভাষা’ ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।

তিনি বলেন, ‘কানাডার মানুষের জীবনে এটি কী পরিবর্তন আনবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’