রাজবাড়ীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত
জেলায় ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
রাজবাড়ী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে আজ শনিবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবাদত হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মায়ের বুকের দুধ নির্দিষ্ট নিয়মে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে।
তিনি আরও বলেন, বুকের দুধ শুধু শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করে না, এটি মা ও শিশুর মধ্যে গভীর আবেগিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও বুকের দুধ পান করানো উপকারী।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, জেলা ইপিআই কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোকারেমা মানজুড়া, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সূর্য কুমার প্রামাণিক, সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার ফরিদা ইয়াসমিন এবং এনজিও প্রতিনিধি মো. লুৎফর রহমান লাবু।
বক্তারা বলেন, শিশুর জন্মের পরপরই মায়ের শালদুধ পান করানো অত্যন্ত জরুরি। মায়ের বুকের দুধে এমন সব প্রাকৃতিক পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে, যা নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আরও বলেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এতে শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
আলোচনা সভায় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যম কর্মী এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।