বেনাপোলে ভারতে পাচারকালে X-Ray-এ ধরা পড়ল অভিনব স্বর্ণপাচার

প্রকাশঃ Sep 19, 2026 - 12:55
বেনাপোলে ভারতে পাচারকালে X-Ray-এ ধরা পড়ল অভিনব স্বর্ণপাচার


শরীরের অভ্যন্তরে স্বর্ণ লুকিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করেছেন এক যাত্রী। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও সাধারণ তল্লাশিতে কোনো স্বর্ণ না পাওয়ায় সন্দেহ দূর হয়নি কাস্টমস গোয়েন্দাদের। পরে X-Ray পরীক্ষায় ওই যাত্রীর রেকটামে স্বর্ণসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে ৮২ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল ইমিগ্রেশন এলাকার জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণগুলো আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেলের একটি দল। আটক স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ভারতে পাচারের প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন এলাকার জিরো পয়েন্টের কাছে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভারতগামী সন্দেহভাজন যাত্রী মামুন-কে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যাত্রী তার কাছে স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা মালপত্র ও শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রচলিত পদ্ধতিতে তল্লাশি চালানো হলেও স্বর্ণের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে তার গতিবিধি ও বক্তব্যে সন্দেহ থাকায় অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য X-Ray পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস গোয়েন্দারা।

X-Ray পরীক্ষায় ওই যাত্রীর রেকটামের ভেতরে স্বর্ণসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শরীরের অভ্যন্তরে স্বর্ণ বহনের কথা স্বীকার করেন।

পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয় ৮২ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টম হাউস, বেনাপোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দারা বলছেন, শরীরের অভ্যন্তরে স্বর্ণ লুকিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের এই ঘটনায় শুধু ওই যাত্রীই জড়িত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা স্বর্ণের উৎস, পাচারের উদ্দেশ্য এবং ভারতে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচার ঠেকাতে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও স্থলবন্দর এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং যাত্রী তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। সন্দেহজনক যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চোরাচালান শনাক্ত করার কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উদ্ধার করা স্বর্ণের বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।