শ্যামলীতে পোশাক প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান, ৮২ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি

প্রকাশঃ Sep 17, 2026 - 20:50
শ্যামলীতে পোশাক প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান, ৮২ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি


রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী এলাকার একটি পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৮২ লাখ টাকার মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। "Shopping Zone BD" নামের প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব শোরুমের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও পোশাক বিক্রি করে থাকে বলে জানা গেছে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এর কমিশনারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আসছিল বলে ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনার মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানের শ্যামলীর ২ নম্বর রোডের ১২/১/৪ নম্বর ঠিকানাস্থ কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও বিক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করে ভ্যাট ফাঁকির স্পষ্ট আলামত খুঁজে পান কর্মকর্তারা। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন বিবেচনায় মূসক আইনের নির্ধারিত মূসক-১২.৩ ফরমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার (সিপিইউ) ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে জব্দকৃত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা ও বিক্রয় রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের বিক্রয় তথ্য শনাক্ত করেন। এই বিপুল অঙ্কের বিক্রয়ের বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব থেকে ৮২ লাখ ৩ হাজার ৫ টাকা মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, জব্দকৃত দলিলপত্র ও ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত এখন বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মূসক আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি বিধি মোতাবেক জরিমানা আরোপেরও সংস্থান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা শাখা নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

—তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)