জি-৭ সম্মেলনে প্রাধান্যে ইউক্রেন ইস্যু

প্রকাশঃ Jun 16, 2026 - 14:02
জি-৭ সম্মেলনে প্রাধান্যে ইউক্রেন ইস্যু

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিতিতে জি-৭ নেতারা মঙ্গলবার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে ‘হয়তো আমরা কিছু একটা করতে পারব।’ ফ্রান্সের অবকাশযাপন কেন্দ্র এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের সকালে ইউক্রেন নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশনে জেলেনস্কি অংশ নেবেন। পরে একই দিনে ইরান ইস্যুতে আরেকটি অধিবেশন হবে, যেখানে আরব নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আয়োজনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান যে, রাশিয়াকে এমন একটি শান্তি চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়া জরুরি, যা কিয়েভের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা চান না ইউক্রেনকে মস্কোর কাছে ছাড় দিতে বাধ্য করা হোক। সোমবার জেলেনস্কি জি-৭ নেতাদের প্রতি ‘দৃঢ় ও কার্যকর’ প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান। এর আগে রাশিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয় ও কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে আগুন লাগে।

জেলেনস্কি জানান, জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মস্কো এ ধরনের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত নয়। অন্যদিকে সোমবার সম্মেলনে পৌঁছে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে জি-৭ সম্মেলনে ‘হয়তো আমরা কিছু করতে পারব।’ ট্রাম্প বলেন, ‘দুই পক্ষই এ বিষয়ে আগ্রহী। গতকাল আমি দু’জনের সঙ্গেই খুব ভালো আলোচনা করেছি।’  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হবে।

রাশিয়ার ‘বর্বরোচিত হামলার’ নিন্দা জানিয়ে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, ‘পুতিনের যুদ্ধের অর্থ জোগানো আয়ের উৎস বন্ধ করে দেওয়া এবং সামনের শীতগুলোতে ইউক্রেনকে সচল রাখতে আমরা কাজ করছি।’ কিছু বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্য ইউক্রেনের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তাই কিয়েভের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন কমিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার ইরান বিষয়ক বিশেষ অধিবেশনে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাতারের আমির ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের করা চুক্তি নিয়েও মিত্র দেশগুলোর নেতারা তার কাছে জানতে চাইবেন। ট্রাম্প বলেছেন, এই চুক্তির ফলে শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। তিন দিনব্যাপী এই শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। জি-৭ সদস্যভুক্ত যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সম্মেলনের পরিধি বাড়াতে আগ্রহী ফ্রান্স। সে কারণে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো নেতারাও এতে যোগ দিয়েছেন।