মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়ানোর পক্ষে ফেডের তিন নীতিনির্ধারক

প্রকাশঃ Aug 1, 2026 - 15:41
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়ানোর পক্ষে ফেডের তিন নীতিনির্ধারক


যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও এর বিরোধিতা করা তিন নীতিনির্ধারক শুক্রবার বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে এখনই সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন।

গত বুধবার টানা পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফেড সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখে। তবে, নীতিনির্ধারণী কমিটির ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন এক-চতুর্থাংশ শতাংশ (০.২৫ শতাংশ) সুদহার বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ফেডের বৈঠকে একসঙ্গে তিন সদস্যের ভিন্নমত দেওয়া এটি বিরল ঘটনা। এটি মূল্যস্ফীতিকে ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জেরও ইঙ্গিত দেয়। গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ওই লক্ষ্যমাত্রায় নামেনি।

ফেডের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা নীতিনির্ধারকদের একজন আঞ্চলিক ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি অনেক দিন ধরেই অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই উচ্চ মূল্যস্ফীতি যত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকবে, সেটিকে আবার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামিয়ে আনা তত বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।’

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন পরিবারের ব্যয় বেড়েছে। মার্চ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও পড়েছে।

এ ছাড়া কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট মূল্যচাপও মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

মিনিয়াপোলিস ফেডের প্রেসিডেন্ট নীল কাশকারি, যিনি হ্যামাকের সঙ্গে ভিন্নমত দিয়েছেন, শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, মূল্যস্ফীতি যদি উচ্চ পর্যায়েই থাকে, তাহলে পরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হওয়ার চেয়ে এখন ছোট ছোট ধাপে নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।’

ডালাস ফেডের প্রেসিডেন্ট লরি লোগান, যিনি তৃতীয় ভিন্নমত প্রদানকারী সদস্য, তিনিও শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, ভবিষ্যতে আরও বড় সুদহার বৃদ্ধির প্রয়োজন এড়াতে এখনই সীমিত পরিসরে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তার মতে, বর্তমান সুদের হার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণমূলক প্রভাব ফেলছে না। কোনো অপ্রত্যাশিত বড় ধাক্কা না এলে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

লোগান বলেন, ‘ফেড তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য অপ্রত্যাশিত ঘটনার ওপর নির্ভর করতে পারে না। তবে, এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি সমন্বয় করা সম্ভব।’

ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তার অবস্থান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ট্রাম্পই তাকে এই পদে মনোনীত করেছেন।