মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সুদের হার বাড়াতে পারে ফেড, সিদ্ধান্ত আজ
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সুদের হার নির্ধারণে বুধবার সিদ্ধান্ত জানাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। বাজারে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সুদের হার বাড়াতে পারে।
ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি)-র ১২ জন ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্য দুই দিনের বৈঠক শেষে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, তাঁর শুল্কনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে চলমান উত্থানের প্রভাবে পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।
জানুয়ারি থেকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। জ্বালানির দামের ধাক্কা এবং শুল্কের প্রভাব কীভাবে ধীরে ধীরে পণ্যের দামে ছড়িয়ে পড়ে, তা বোঝার জন্য তারা অপেক্ষা করছিল।
তবে জুলাইয়ের সর্বশেষ বৈঠকে কমিটির সদস্যদের এক-চতুর্থাংশ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।
এরপর ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ-সহ কয়েকজন নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে না কমলে ফেডকে ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত আগস্টের ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের মাসের তুলনায় হার অপরিবর্তিত থাকলেও এটি ফেডের দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।
এই তথ্য চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৯২ শতাংশের বেশি ধরে নিয়েছেন।
কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়ঙ্ক বলেন, ‘এটি নীতিতে বড় পরিবর্তন, তবে বিস্ময়কর নয়। মূল্যস্ফীতি এখনও ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে।’
তিনি বলেন, ‘এটি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণের অংশ হয়ে উঠছে—ঠিক যে বিষয়টি অবশ্যই ফেডকে প্রতিরোধ করতে হবে।’
আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
বুধবার ফেড সুদের হার বাড়ালে ২০২৩ সালের পর এই প্রথম এমন সিদ্ধান্ত হবে। সে সময় মহামারির পর উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।
এমন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সুদের হার কমানোর জন্য তিনি স্বাধীন এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নজিরবিহীন চাপ দিয়ে আসছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ফেডের সাবেক চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। ট্রাম্প নিয়মিতভাবে পাওয়েলকে অপমান ও সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি ফেডের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্তের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট সুদের হার বাড়ানোর বিরোধিতা করেন। তবে তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হোয়াইট হাউস সেটি সম্মান করবে।’