এনবিআরের অভিযানে ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠানে মোটা টাকার মূসক ফাঁকি উদঘাটন

প্রকাশঃ Sep 20, 2026 - 19:52
এনবিআরের অভিযানে ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠানে মোটা টাকার মূসক ফাঁকি উদঘাটন


রাজধানীর অদূরে ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকা মূসক (ভ্যাট) ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় এবং পণ্য ও কাঁচামাল ক্রয়ের তথ্য গোপনের মাধ্যমে এই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনারের নির্দেশনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ধামরাইয়ের নবগ্রামে অবস্থিত Xinlian Electronics Technology Bangladesh Co. Ltd.-এ প্রিভেন্টিভ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নিবন্ধন অনুযায়ী, এটি লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক হিসেবে নিবন্ধিত।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিদর্শন করে কর্মকর্তারা দেখতে পান, সেখানে শুধু লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনই নয়, প্রস্তুতকৃত ব্যাটারি ও ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামের পাশাপাশি আমদানিকৃত মোবাইল চার্জার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হেডফোন ও ব্লুটুথ হেডফোন সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অভিযানের সময় প্রাথমিকভাবে মূসক ফাঁকির তথ্য পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও কার্যক্রম সম্পর্কে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে মূসক ১২.৩-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত বিভিন্ন দলিলাদি জব্দ করা হয়।

জব্দ করা দলিলাদি পর্যালোচনা করে রাজস্ব কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসংগতি শনাক্ত করেন। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০৭ টাকা মূল্যের বিক্রয় তথ্য গোপন করেছে।

এই গোপন করা বিক্রয় তথ্যের বিপরীতে মূসক ফাঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকা।

রাজস্ব কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত ও নথিতে প্রদর্শিত বিক্রয় তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রয়-সংক্রান্ত তথ্যের পার্থক্য পর্যালোচনার মাধ্যমেই এই ফাঁকির পরিমাণ উদঘাটন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ও কাঁচামাল ক্রয়ের নথিও পর্যালোচনা করা হয়। এতে ১৫ কোটি ২২ লাখ ৮ হাজার ৭৭৫ টাকা মূল্যের পণ্য ও কাঁচামাল ক্রয়ের তথ্য গোপন করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

এসব গোপন করা ক্রয় তথ্যের বিপরীতে মূসক ফাঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৬১ টাকা।

বিক্রয় তথ্য গোপনের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকা এবং পণ্য ও কাঁচামাল ক্রয়ের তথ্য গোপনের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৬১ টাকা—এই দুই অঙ্ক মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকা মূসক ফাঁকি উদঘাটনের কথা জানিয়েছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।

অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক হিসেবে নিবন্ধিত হলেও অভিযানের সময় সেখানে ব্যাটারি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল ও সরঞ্জামের পাশাপাশি অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যও পাওয়া যায়।

এর মধ্যে আমদানিকৃত মোবাইল চার্জার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হেডফোন এবং ব্লুটুথ হেডফোন সরবরাহের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে এনবিআর। ফলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত কার্যক্রম, আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রমের মধ্যে মূসক-সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, জব্দ করা দলিলাদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকা মূসক ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। সরকারি পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযানে উদঘাটিত অর্থের পরিমাণকে চূড়ান্ত সরকারি দাবিতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।

রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটনে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের এ ধরনের প্রিভেন্টিভ অভিযান ও নথি যাচাই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেন, বিক্রয় ও ক্রয় তথ্যের সঙ্গে দাখিল করা মূসক-সংক্রান্ত তথ্যের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ধামরাইয়ের Xinlian Electronics Technology Bangladesh Co. Ltd.-এর ক্ষেত্রেও জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনার পর গোপন করা লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিপুল পরিমাণ মূসক ফাঁকির তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।