আদালতে মামলা চলমান রেখেই মিরপুর টোলারবাগে ১২ কাঠা জমি নিলামে বিক্রির উদ্যোগের অভিযোগ উত্তরা ব্যাংকের বিরুদ্ধে

প্রকাশঃ Jun 29, 2026 - 22:16
আদালতে মামলা চলমান রেখেই মিরপুর টোলারবাগে ১২ কাঠা জমি নিলামে বিক্রির উদ্যোগের অভিযোগ উত্তরা ব্যাংকের বিরুদ্ধে

রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ এলাকায় প্রায় ১২ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিটি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ায় উত্তরা ব্যাংকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে একটি জাতীয় দৈনিকে জমিটি নিলামে বিক্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, উক্ত জমি নিয়ে বর্তমানে আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা নং- ২১৩/২০১৭ এবং চতুর্থ জেলা জজ আদালতে মামলা নং- ১২৮/২০১৭ চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ।

এর আগে জমির দখলদারদের বিরুদ্ধে উত্তরা ব্যাংক কর্তৃক দায়ের করা মামলা নং- ৮১(৯)/২০১৫-এ আদালত গত ৩০ এপ্রিল দখলদারদের পক্ষে রায় প্রদান করেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই রায়ের পরও বিচারাধীন সম্পত্তি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করার শামিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, টোলারবাগের এই জমি নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে বিভিন্ন আদালতে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও উত্তরা ব্যাংকের একটি অসাধু কর্মকর্তা চক্র গোপনে জমিটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিচারাধীন সম্পত্তি নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জটিল আইনি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে উত্তরা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আদালতে বিচারাধীন কোনো সম্পত্তি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ ও প্রচলিত আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম নতুন আইনি জটিলতার জন্ম দিতে পারে।