রুশদিকে ছুরিকাঘাতকারী সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত

প্রকাশঃ Jul 30, 2026 - 21:49
রুশদিকে ছুরিকাঘাতকারী সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত


যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি বুধবার লেখক সালমান রুশদির ওপর ২০২২ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে চালানো হামলার ঘটনায় হামলাকারীকে ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। 

নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি মাইকেল ডি জিয়াকোমো বলেন, ২৮ বছর বয়সী লেবানিজ-আমেরিকান হাদি মাতার ইরানের নেতাদের সন্ত্রাসবাদী মূল্যবোধের সঙ্গে নিজের মূল্যবোধকে একাত্ম করার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, মাতার কয়েক মাস ধরে এ হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। ওই ছুরিকাঘাতে রুশদি প্রায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। হামলায় তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারান।

তদন্তকারীরা মাতারের বাড়ি থেকে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করার পর তাকে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে সমর্থনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

ফেডারেল কৌঁসুলিরা বলেন, মাতার ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জারি করা রুশদিকে হত্যার ফতোয়া অনুসরণ করেছিলেন। 

রুশদির বেস্টসেলার বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কল্পকাহিনী লেখার অভিযোগে ওই ফতোয়া জারি করা হয়েছিল।

কৌঁসুলিদের ভাষ্য, ২০১৭ সালে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ওই ফতোয়া পুনর্ব্যক্ত করেন। পরে ২০০৬ সালের এক ভাষণে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহও সেটির প্রতি সমর্থন জানান।

ডি জিয়াকোমো বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ একটি বক্তব্য অনুষ্ঠানে মি. রুশদির ওপর তার নৃশংস হামলা ইরানের সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক বিস্তারের এক শীতল স্মারক।’

নিউইয়র্কের মেইভিলে অবস্থিত শাটাকুয়া ইনস্টিটিউশনে বাকস্বাধীনতা বিষয়ক এক সম্মেলনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

তখন ২৪ বছর বয়সী মাতার মঞ্চে উঠে প্রায় ছয় ইঞ্চি দীর্ঘ একটি ছুরি দিয়ে রুশদিকে বারবার আঘাত করেন।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিচারব্যবস্থায় মাতার এরই মধ্যে হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

এবার ফেডারেল মামলায় তিনি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন।

আগামী ৩ নভেম্বর তার সাজা ঘোষণা করা হবে।

বিচার শুরুর আগে এক সাংবাদিককে মাতার বলেছিলেন, তার বিশ্বাস ছিল রুশদি ‘ইসলামের ওপর আক্রমণ করেছিলেন’।

১৯৮৯ সালের ফতোয়ার পর রুশদি এক দশক লন্ডনে আত্মগোপনে ছিলেন। 

তবে হামলার আগ পর্যন্ত গত ২০ বছর তিনি নিউইয়র্কে তুলনামূলক স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন।