ডেটা ইউজার-প্রোভাইডার অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কবির উদ্দিন
ডেটা ইউজার ও প্রোভাইডার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন জিওস্পেশিয়াল এক্সপার্ট বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কবির উদ্দিন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিগহাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফ্লাড পার্টনারশিপ (জিএফপি) বার্ষিক সম্মেলনে তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচ) দুর্যোগ ও বাস্তুতন্ত্র বিষয়ক ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণের গবেষণা ফেলো হিসেবে কর্মরত আছে।
‘ফ্রম রিসার্চ টু অপারেশনস: অ্যাডভান্সিং গ্লোবাল ফ্লুড ফোরকাস্টিং অ্যান্ড অপারেশনাল হাইড্রোলজি’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭৮ জন জলবিজ্ঞানী, জিওস্পেশিয়াল এক্সপাট ও পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন।
গ্লোবাল ফ্লাড পার্টনারশিপের স্টিয়ারিং কমিটি গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের কার্যকর সংযোগ স্থাপনে বিশেষ অবদানের জন্য কবির উদ্দিনকে এ সম্মাননা প্রদান করে।
সম্মেলনে তিনি ‘বিয়ন্ড র্যাপিড ফ্লুড ম্যাপিং ফ্রম লোকাল টু ন্যাশনাল স্কেল ইউজিং অ্যাকশনেবল জিওস্পেশিয়াল ডেটা ফর রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ফ্লুড শেল্টার সুইটেবিলিটি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি উপগ্রহভিত্তিক ভূ-পর্যবেক্ষণ চিত্র ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ব্যবহার করে বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং উপযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করার পদ্ধতি তুলে ধরেন।
ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচ-এ যোগদানের আগে কবির উদ্দিন দুই দশকেরও বেশি সময় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিমড)-এ ডেটা বিশ্লেষক, ইন্টারন্যাশনাল চার্টার স্পেস অ্যান্ড মেজর ডিজাস্টার্স-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সেন্টিনেল এশিয়ার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বন্যার জলমগ্নতা মানচিত্র তৈরিতে তার উল্লেখযোগ্য কাজ ২০০৮ সালের কোসি বন্যা, ২০১০ সালের পাকিস্তান বন্যা, ২০১৬ সালের বিহার বন্যা এবং নেপালের কাঠমান্ডু ও থামে এবং বাংলাদেশের ফেনী নদী অববাহিকায় ২০২৪ সালের বন্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বন্যার ঝুঁকি হ্রাসে স্যাটেলাইট তথ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছেন।