হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন উদ্বেগে বাড়ছে তেলের দাম

প্রকাশঃ Aug 7, 2026 - 19:24
হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন উদ্বেগে বাড়ছে তেলের দাম


হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ কমে যাওয়ায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।

ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে— এমন খবর প্রকাশের পর বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সপ্তাহের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন এবং একটি সমঝোতা চুক্তি খুব কাছাকাছি বলে জানান। তবে তেহরান এ ধরনের কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।

এদিকে ইরান জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নিজস্ব নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

বুধবার থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার তা প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জাহাজ চলাচল ঠেকানোর চেষ্টা করবে।

এর ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আবার আলোচনায় এসেছে।

শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুটি বেঞ্চমার্কের দামই প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থান নিয়ে উদ্বেগের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার চাপের মুখে ছিল। এছাড়া টোকিও, হংকং, সিডনি, ওয়েলিংটন, তাইপে ও ম্যানিলার বাজারও নিম্নমুখী ছিল। তবে সাংহাই ও সিঙ্গাপুরের বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও দরপতন হয়। টানা তিন দিন রেকর্ড উচ্চতায় থাকার পর ডাও জোন্স সূচক কমে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে বিনিয়োগকারীরা প্রশ্ন তুলছেন— সপ্তাহের শুরুতে বাজারে যে উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা কতটা যৌক্তিক ছিল।

এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে জুলাই মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) তথ্য। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বেলওয়েদার ওয়েলথের ক্লার্ক বেলিন বলেন, কর্মসংস্থানের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখতে হলে এমন একটি সংখ্যা দরকার, যা খুব বেশি শক্তিশালীও নয় আবার খুব দুর্বলও নয়।

মার্কেট ইনসাইটসের মাইকেল হিউসন বলেন, জুলাই মাসের যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক এখন বাজারের প্রধান নজরে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমার আরও প্রমাণ পাওয়া যাবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফেডের নীতিনির্ধারণী বোর্ডের তিন সদস্য সম্প্রতি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ভোক্তা মূল্যসূচকে (সিপিআই) সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা কমতি দেখা গেলেও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো— দামের ধারাবাহিক অস্থিরতার কারণে মূল্যস্ফীতি শেষ পর্যন্ত তুলনামূলক উচ্চ একটি স্তরে স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

তিনি  আরও বলেন, ফেডের সাম্প্রতিক বৈঠকে সুদের হার নীতির বিষয়ে তিনজন নীতিনির্ধারক যে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন, তার পেছনেও মূলত এসব উদ্বেগই কাজ করেছে।