মে মাসে বাংলাদেশের পিএমআই ৬২.৮ এ উন্নীত, সব প্রধান খাতে সম্প্রসারণ

প্রকাশঃ Jun 8, 2026 - 22:09
মে মাসে বাংলাদেশের পিএমআই ৬২.৮ এ উন্নীত, সব প্রধান খাতে সম্প্রসারণ

মে মাসে দেশের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে ৬২ দশমিক ৮-এ উন্নীত হয়েছে। যা উৎপাদন, নির্মাণ, পরিষেবা ও কৃষিসহ অর্থনীতির সব প্রধান খাতে সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) আজ যৌথভাবে প্রকাশিত ২০২৬ সালের মে মাসের পিএমআই প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে দ্রুততর প্রবৃদ্ধি এবং নির্মাণ খাতের পুনরুদ্ধারের ফলে সামগ্রিক পিএমআই সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে কৃষি খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে।

কৃষি খাত টানা নবম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে। এ খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সূচকে দ্রুততর প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও নতুন ব্যবসা ও ইনপুট খরচের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর ছিল। একই সঙ্গে অর্ডার ব্যাকলগ সূচকে সংকোচন লক্ষ্য করা গেছে। উৎপাদন খাত টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সম্প্রসারণ বজায় রেখেছে এবং এ খাতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেড়েছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি, ইনপুট ক্রয় এবং কর্মসংস্থান সূচকের শক্তিশালী উন্নতি এ প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। পাশাপাশি আমদানি ও অর্ডার ব্যাকলগ সূচকও পুনরায় সম্প্রসারণে ফিরেছে।

টানা তিন মাসের সংকোচনের পর নির্মাণ খাত মে মাসে আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান সূচকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে ইনপুট খরচের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে পরিষেবা খাত টানা ২০তম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে। এ খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং ইনপুট খরচ সূচকে দ্রুততর প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। নতুন ব্যবসা সূচকও পুনরায় সম্প্রসারণে ফিরেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মে মাসে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রম ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ব্যবসায়িক কর্মকা-ে প্রভাব ফেলেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কাঁচামাল ও অন্যান্য ইনপুট ব্যয় বৃদ্ধিতে মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘœ এবং রপ্তানি চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। কৃষি খাতের উদ্যোক্তারা আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তাকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অধিকাংশ উত্তরদাতা ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ করা হলে আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, মে মাসের পিএমআই সূচক নির্দেশ করে যে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী সম্প্রসারণের পথে অগ্রসর হয়েছে। এপ্রিলের তুলনায় উৎপাদন, নির্মাণ এবং পরিষেবা খাতে দ্রুততর প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘœ এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক কর্মকা-ের সম্প্রসারণ দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলোতে বিস্তৃতভিত্তিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করেছে। পিএমআই একটি অগ্রণী উদ্যোগ, যার লক্ষ্য দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়ে সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান। যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকেরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। এটি এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি সহায়তায় প্রণীত।